পোশাক খাতের শ্রমিকদের সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করতে প্রথম দুই বছরের জন্য বিশেষ সরকারি প্রণোদনা এবং পেনশনের বয়সসীমা ৬০ বছরের পরিবর্তে ৫৫ বছর নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের নুরুল কাদের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সর্বজনীন পেনশন স্কিম বিষয়ক আলোচনা সভায় এ প্রস্তাব জানান বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। বিজিএমইএ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, পোশাক খাতের সব শ্রমিককে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এই স্কিমকে শ্রমিকদের মধ্যে আরও জনপ্রিয় ও আকর্ষণীয় করতে প্রথম দুই বছরের জন্য বিশেষ সরকারি প্রণোদনা এবং পোশাক শ্রমিকদের ক্ষেত্রে পেনশনের বয়সসীমা ৬০ বছরের পরিবর্তে ৫৫ বছর নির্ধারণ করা যেতে পারে।
সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য শেখ কামরুল হাসান, বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান ও সহ-সভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান।
মূল প্রবন্ধে ড. মো. সুরাতুজ্জামান বলেন, ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী নাগরিকরা ব্যাংকের মাধ্যমে স্কিমে চাঁদা জমা দিতে পারবেন এবং ৬০ বছর পূর্ণ হলে পেনশন পাবেন। গ্রাহক ৬০ বছরের আগে মারা গেলে তাঁর মনোনীত ব্যক্তি জমা করা অর্থ মুনাফাসহ পাবেন। আয়ের সমস্যায় চাঁদার পরিমাণ কমবেশি করার সুযোগও রয়েছে।
তিনি জানান, পেনশন স্কিমের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে এডিবির অর্থায়নে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০২৬-এর সর্বশেষ সংশোধনীতে ১০০ জনের বেশি শ্রমিক থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় আনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, তৈরি পোশাক খাতের প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিককে স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করা ও এর ধারাবাহিক ব্যবস্থাপনা বজায় রাখা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হবে। তবে সরকারের এ উদ্যোগ সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়।
সহ-সভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম বলেন, আকর্ষণীয় ‘রেট অব রিটার্ন’ বিবেচনায় এই স্কিম শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পোশাক খাতের সব শ্রমিককে এর আওতায় আনতে বিজিএমইএ সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করবে।
সভায় বিজিএমইএর সদস্য, বিভিন্ন পোশাক শিল্পের মালিক, প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শ্রমিক প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.