দেশব্যাপী বইপড়া কর্মসূচিতে বিকাশ ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ১২ বছর যৌথ যাত্রা
বিতরণ হয়েছে ৪ লাখ বই, উপকৃত হয়েছেন ৩২ লাখের বেশি পাঠক-শিক্ষার্থী
“মানুষ শৈশবে যা দেখে, সারাজীবন সেটিকে পুনর্নির্মাণ করার চেষ্টা করে,” বলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। বই এবং বই পড়া ছড়িয়ে দিতে তাঁর বাবা কীভাবে তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিলেন, সেই স্মৃতিচারণা করছিলেন এই বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকাশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিাশ্চিত করেছে।
বই পড়ার কর্মসূচি সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া নিয়ে তিনি বলেন, “এই যাত্রায় অনেক কষ্ট হয়েছে, অনেকের সাহায্যও পাওয়া গেছে—ব্যক্তিগত, সামাজিক, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছি। সরকারের বাইরে যে প্রতিষ্ঠানগুলো বড় সহায়তা দিয়েছে, তার মাঝে একটি প্রতিষ্ঠান বিকাশ।
“এই ১২ বছরে আমরা বিকাশের কাছ থেকে ৪ লাখ বই পেয়েছি, যা দেশজুড়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেওয়া হয়েছে। এই ৪ লাখ বই অন্তত ৩২ লাখ ছেলে-মেয়ে পড়েছে। বিকাশ যদি এই অর্থটা অন্য জায়গায় বিনিয়োগ করত, তাহলে হয়তো ব্যবসায়িকভাবে একটু লাভবান হতো। কিন্তু সেটা না করে এখানে করাতে বিকাশ লাভবান হয়েছে কি না জানি না, কিন্তু জাতি লাভবান হয়েছে।”
দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বই পড়ার কর্মসূচি ছড়িয়ে দিতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও বিকাশের অংশীদারিত্বের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে আয়োজিত এক প্রীতি সম্মেলনে এক ভিডিও বার্তায় এই মতামত ব্যক্ত করেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর, চিফ এক্সটার্নাল অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মেজর জেনারেল শেখ মো. মনিরুল ইসলাম (অব.) এবং বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান। এছাড়াও বিভিন্ন বিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী ও তাঁদের শিক্ষকসহ সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই প্রীতি সম্মেলনে যোগ দেন।
একটি মননশীল সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলার আশা রেখে ভিডিও বার্তায় অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ আরও বলেন, “এত ছোট্ট একটা দেশ, এত বড় জনসংখ্যা! পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষের পক্ষেও এই দেশকে সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাওয়া কঠিন, কিন্তু আমরা যদি সবাই চেষ্টা করতে থাকি, যে যার জায়গা থেকে চেষ্টা করি, তাহলে অসম্ভব বলে কিছু নেই।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন প্রয়োজন, প্রধানমন্ত্রী চেষ্টা করে যাচ্ছেন, দেশে শিক্ষার মান বাড়াতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার, প্রাথমিক থেকেই শুরু করতে হবে, গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কারিগরি শিক্ষাতেও।”
সরকার শিক্ষা বাজেটকে ক্রমান্বয়ে জাতীয় বাজেটের ৫ শতাংশে নিতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “পূর্ববর্তী সরকারের ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ শিক্ষা বাজেটকে ইতোমধ্যে এই সরকার ২ শতাংশে নিয়ে এসেছে, এ বছর আমরা ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকার শিক্ষা বাজেট পেয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “মোবাইল ও মাদকের আসক্তি থেকে বের করে আনতে নতুন প্রজন্মকে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে, এই ক্ষেত্রে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও বিকাশের উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানাই, আশা করি সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে সামনে আরও অনেক প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসবে।”
এ সময় বিকাশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর বলেন, “যাত্রার শুরু থেকেই বিকাশের লক্ষ্য দেশের মানুষের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। সেই সঙ্গে একটি দায়িত্বশীল করপোরেট প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি, টেকসই উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হলো শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চা। এই বিশ্বাস থেকেই গত ১২ বছর ধরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বিকাশ।”
তিনি বলেন, “বিকাশ ১৫ বছর ধরে চলছে, গত কয়েক বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি কিছু লাভ করছে, তবে এই লাভ হওয়ার বহু আগ থেকেই বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এই কর্মসূচির সঙ্গে আমরা যুক্ত আছি। ১২ বছর আগে যখন এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাই, আমরা তা লুফে নিয়েছিলাম। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের উদ্যোগের সঙ্গে আমাদের যুক্ত করার জন্য তাদের ধন্যবাদ। আমরা সবসময়ই এমন উদ্যোগকে গুরুত্ব দিয়েছি, যা তরুণ প্রজন্মকে পাঠ্যপুস্তকের গণ্ডি পেরিয়ে নতুন জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও মুক্তচিন্তার জগতে নিয়ে যায়।”
শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠাভ্যাস, চিন্তাশীলতা এবং মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার অন্যতম বৃহৎ ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ হলো বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের দেশভিত্তিক উৎকর্ষ কার্যক্রমের ‘বইপড়া কর্মসূচি’। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র সারাদেশে এই কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এই লক্ষ্যকে নিজেদের সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে ধারণ করে ২০১৪ সাল থেকে টানা ১২ বছর ধরে বইপড়া কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বিকাশ। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে গত ১২ বছরে ৪ লাখের বেশি বই দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠাগারে বিতরণ করেছে বিকাশ। বিকাশের সহায়তায় বিতরণ করা বইগুলো প্রায় ৩ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছেছে, যার মাধ্যমে ৩২ লাখের বেশি শিক্ষার্থী ও পাঠক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.