দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে (৩০ আগস্ট থেকে ০৩ সেপ্টেম্বর) সূচকের উত্থানের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। একই সঙ্গে সপ্তাহ ব্যবধানে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে প্রায় ১ হাজার ১৭৯ কোটি টাকা।
ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৮ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা। আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে যা ছিল ৬ লাখ ৯৭ হাজার ৩১৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহ ব্যবধানে বাজার মূলধন বেড়েছে প্রায় ১ হাজার ১৭৯ কোটি টাকা বা ০ দশমিক ১৭ শতাংশ।
সপ্তাহজুড়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬ দশমিক ৪১ পয়েন্ট বা ০ দশমিক ১১ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৬৬২ দশমিক ০৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহের শেষে এ সূচক ছিল ৫ হাজার ৬৫৫ দশমিক ৬৮ পয়েন্ট।
ডিএস-৩০ সূচক ৫ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট বা ০ দশমিক ২৭ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ১৪০ দশমিক ৭৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আগের সপ্তাহে সূচকটির অবস্থান ছিল ২ হাজার ১৩৪ দশমিক ৮৮ পয়েন্ট।
অন্যদিকে, শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক ৫ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট বা ০ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১৩৮ দশমিক ০১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহে এ সূচক ছিল ১ হাজার ১৩২ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট।
সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৩ হাজার ৪৪ কোটি ৯ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ২৮৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।
অর্থাৎ সপ্তাহ ব্যবধানে মোট লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৭৫৮ কোটি ১০ লাখ টাকা বা ৩৩ দশমিক ১৪ শতাংশ।
এদিকে প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেনও বেড়েছে। চলতি সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৬০৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে গড় লেনদেন ছিল ৫৭১ কোটি ৭১ লাখ টাকা। ফলে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে গড় শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২১২ কোটি ৭১ লাখ ইউনিট। আগের সপ্তাহে এর পরিমাণ ছিল ২১১ কোটি ১২ লাখ ইউনিট। অর্থাৎ গড় ভলিউম বেড়েছে শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ।
পাশাপাশি ডিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে ২৪৮ মিলিয়ন ডলার, যা আগের সপ্তাহের ১৮৬ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
সাপ্তাহিক বাজারচিত্রে দেখা যায়, ডিএসইতে মোট ৪১১টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১৮৭টির শেয়ারদর বেড়েছে, ১৭০টির কমেছে, ৩০টির দর অপরিবর্তিত ছিল এবং ২৪টি প্রতিষ্ঠানের কোনো লেনদেন হয়নি।
অর্থাৎ দর বাড়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কিছুটা বেশি ছিল।
সব মিলিয়ে, বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান তিন সূচকই ঊর্ধ্বমুখী ছিল এবং বাজার মূলধনও বেড়েছে। একই সঙ্গে মোট ও দৈনিক গড় লেনদেনে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
তবে এসএমই সূচকের বড় পতন এবং বাজারে দর কমা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে পুরোপুরি শক্তিশালী আস্থা ফিরে এসেছে—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই। বরং সূচকের সামান্য উত্থানের পাশাপাশি লেনদেন বৃদ্ধিই এ সপ্তাহের পুঁজিবাজারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.