পুঁজিবাজারে আবারও খুলতে যাচ্ছে সরাসরি তালিকাভুক্তির (Direct Listing) দরজা। সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানির পাশাপাশি বহুজাতিক কোম্পানি এবং দেশীয় বড় কোম্পানি এ পদ্ধতিতে বাজারে আসতে পারবে। তবে এর জন্য পূরণ করতে হবে বেশ কিছু শর্ত। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ইতোমধ্যে এসব শর্ত নির্ধারণ করে বিধিমালার খসড়া তৈরি করেছে। জনমত যাচাইসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ধাপ পেরোনোর পর এটি চূড়ান্ত করা হবে।
এর আগে ২০০৮ সালে পুঁজিবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি কিছু কোম্পানিকে শেয়ার বিক্রি ও তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। ওই সময়ে কিছু অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে পরবর্তীতে এই পদ্ধতি স্থগিত করা হয়। কয়েক বছর আগে আবারও পদ্ধতিটি পুনর্বহাল করে সেটি কেবল সরকারি কোম্পানির জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এখন আবারও বেসরকারি খাতের কোম্পানিগুলোর জন্য এই পথ খুলে দেওয়া হচ্ছে। তবে আগের মতো এই সুযোগের অপব্যবহার যাতে না হয়, সে লক্ষ্যে প্রস্তাবিত আইনে নানা শর্ত ও ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।
যেসব কোম্পানি পাবে সরাসরি তালিকাভুক্ত সুযোগ:
০১. প্রস্তাবিত বিধামালা অনুসারে, সরকারের সম্পূর্ণ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানাধীন কোম্পানি; যেসব কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের কমপক্ষে ১০ শতাংশ সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মালিকানাধীন কোম্পানি সরাসরি তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন করতে পারবে।
০২. বহুজাতিকসহ বিদেশী বিনিয়োগের কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আগ্রহী করতে তাদের জন্যেও সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে প্রস্তাবিত আইনে। শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগের কোম্পানির পাশাপাশি যেসব কোম্পানিতে বিদেশী শেয়ারহোল্ডারদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা আছে, সেগুলোও সরাসরি তালিকাভুক্তির জন্য যোগ্য বিবেচিত হবে।
০৩. বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) এর অনুমোদনপ্রাপ্ত টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি-সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারী অথবা আইসিটি অবকাঠামো অথবা উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর মধ্যে যেসব কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন কমপক্ষে ৩০০ কোটি টাকা, সেগুলোও এই পদ্ধতির আওতায় বাজারে আসতে পারবে।
০৪. কমপক্ষে ৩ বছরের কার্যক্রম পরিচালনাকারী তফসিলি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বীমা কোম্পানি সরাসরি তালিকাভুক্তির জন্য বিবেচিত হবে।
০৫. দেশীয় উদ্যোক্তাদের যেসব কোম্পানির বার্ষিক টার্নওভার বা লেনদেন কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকা, সেগুলোও এই সুবিধা পাবে।
০৬. ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ, সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে বাজারে আসতে পারবে।
তবে এ ক্ষেত্রে কমিশনে নিবন্ধিত স্টক এক্সচেঞ্জ, ডিপোজিটরি ও সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি নির্ধারিত অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে। এসব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জে ডাইরেক্ট লিস্টিং করা যাবে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.