ইরানের লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। হামলায় ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সদস্য ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার দাবি করেছে তেহরান। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি।
রোববার (৩০ আগস্ট) লারাক দ্বীপে আইআরজিসির দুটি রকেট লঞ্চার লক্ষ্য করে মার্কিন বাহিনী বিমান হামলা চালায় বলে ইরানি সূত্র জানিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ওই লঞ্চার দুটি থেকে মাইনবাহী দুটি মার্কিন জাহাজে হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। হামলার আশঙ্কা থেকেই সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মার্কিন ওই কর্মকর্তা আরও জানান, হামলার পর এলাকাটিতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে মার্কিন বাহিনী।
ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, লারাক দ্বীপে হামলার সময় স্থানীয় বাসিন্দারা একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। পরে আইআরজিসিও হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের দাবি, হামলায় আইআরজিসির কয়েকজন সদস্যের পাশাপাশি কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
হামলার পর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেয় আইআরজিসি। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন হামলার জবাবে জর্ডানে অবস্থিত কিং হুসেইন ও আল আজরাক সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
আইআরজিসির দাবি, পাল্টা হামলায় ঘাঁটি দুটির প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ও পুনর্গঠন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন বাহিনীর বিমান পরিচালনার অবকাঠামোতেও হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা। তবে এসব দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
আইআরজিসি আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে প্রতিটি হামলার আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে তারা।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহনে এই জলপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা এই অঞ্চলের গণ্ডি ছাড়িয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলা এবং এর পর জর্ডানে পাল্টা হামলার দাবি—দুই পক্ষের সামরিক অবস্থান আরও কঠোর হওয়ারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়লে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও নতুন অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.