‘তৌহিদী জনতার’ নামে সাংবাদিককে হুমকি

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় সাংবাদিক হাসান ইমাম ইবনে হাবীব ওরফে হাসান ইমাম রুবেলকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ‘তৌহিদী জনতার’ নামে দেওয়া একটি উড়ো চিঠিতে লেখালেখি বন্ধ করার জন্য সতর্ক করে অন্যথায় প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে চিঠিটির প্রকৃত উৎস সম্পর্কে তিনি সন্দিহান।

এ ঘটনায় বুধবার (২৬ আগস্ট) ভেড়ামারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

এ ঘটনায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ), ইকনোমিক রিপোর্টারর্স ফোরাম (ইআরএফ) এবং ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) নিন্দা জানিয়েছে।

হাসান ইমাম রুবেল এক সময় দৈনিক প্রথম আলো, চ্যানেল২৪ এবং নিউজবাংলাটুয়েন্টফোরে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। কয়েকবছর ধরে তিনি যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। তার স্ত্রী দেশটির একটি ইউনিভার্সিটতে পড়াশোনা করছেন, যা প্রায় শেষ পর্যায়ে আছে। সে সুবাদে তারা দেশটিতে বাস করছেন। সেখানে অবস্থানকালে তিনি দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ইস্যুতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অভিমত তুলে ধরেছেন।

উড়ো চিঠিতে তাকে ছাত্রজীবন থেকেই বামপন্থি রাজনীতিতে যুক্ত এবং ইসলামবিদ্বেষী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এটি পরিহার না করলে তাকে যেকোনো উপায়ে কতল করারও হুমকি দেওয়া হয়।

জিডিতে হাসান ইমাম রুবেল জানান, বুধবার ভোরে ভেড়ামারা থানাধীন হিড়িমদিয়া গ্রামের বাড়ির মূল ফটকের নিচ দিয়ে সাধারণ একটি খামে ‘তৌহিদী জনতার’ নামে একটি চিঠি রেখে যাওয়া হয়।

চিঠিতে তার ফেসবুকের বিভিন্ন স্ট্যাটাস, মন্তব্য ও লেখালেখি প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে এসব লেখালেখি বন্ধ করার জন্য সতর্ক করা হয়, অন্যথায় প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

চিঠিতে তার ব্যক্তিগত পরিচয় ও বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য থাকার দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি তার চলাফেরার ওপর নজর রাখা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

এসব বক্তব্যের কারণে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতরভাবে শঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন বলে জিডির আবেদনে উল্লেখ করেন হাসান ইমাম রুবেল। তবে চিঠিটি কে বা কারা দিয়েছে, সেই বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা গোষ্ঠীকে সরাসরি দায়ী না করে চিঠির উৎস এবং প্রেরক বা প্রেরকদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

সাংবাদিক হাসান ইমাম রুবেল বলেন, পরিবার নিয়ে অনেক দিন পরে গ্রামের বাড়িতে এসেছি। আজ ভোরে বাড়ির মূল ফটকের নিচ দিয়ে সাধারণ একটি খামে ‘তৌহিদী জনতার’ নামে একটি চিঠি রেখে যাওয়া হয়। বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি। হুমকির চিঠির প্রকৃত উৎস এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।

হাসান ইমাম রুবেল বছরে এক-দুইবার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভেড়ামারার হিড়িমদিয়ার ওই বাড়িতে অল্প কয়েক দিন অবস্থান করেন।

এ বিষয়ে ভেড়ামারা থানার ওসি মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান জানান, এ বিষয়ে হাসান ইমাম রুবেল ভেড়ামারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। পুলিশ তার বাড়ি পরিদর্শন করেছেন। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে ভেড়ামারা থানাধীন জুনিয়াদহ ইউনিয়নের জগশ্বর গ্রামের বাসিন্দা কিয়ামত আলী সরদারকে আগস্ট মাসের ১৭ তারিখে একটি বিশেষ বাহিনীর নাম করে উড়ো চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেখানে তাকে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। অন্যথায় পরিবারসহ হত্যার অভিযোগ রয়েছে।

ভেড়ামারা থানাধীন একটি দলের জেলা আহ্বায়ককে বেশ কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন নাম্বার ব্যবহার করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি ভেড়ামারা থানায় জিডি করেছেন।

এছাড়াও সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরে কর্মরত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও বেশ কয়েকদিন ধরে ভেড়ামারায় হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তথ্য রয়েছে।

হাসান ইমাম রুবেলকে দেওয়া চিঠিতে যা লেখা আছে:

চিঠির শুরুতে ‘জনাব হাসান ইমাম রুবেল’ সম্বোধন করে বলা হয়েছে- তার ফেসবুকের স্ট্যাটাস, মন্তব্য ও লেখালেখি পর্যালোচনা করা হয়েছে। এসব লেখাকে ইসলাম ও আলেম-ওলামাবিরোধী হিসেবে উল্লেখ করে চিঠিতে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।

চিঠিতে তার অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, ব্যক্তিগত জীবন ও লেখালেখি নিয়েও বিভিন্ন দাবি করা হয়েছে। এরপর এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জন্য তাকে সতর্ক করা হয়। অন্যথায় ‘প্রাণ নিয়ে ফিরতে পারবেন না’ এবং ‘যেকোনো উপায়ে’ তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

চিঠির শেষাংশে এটিকে ‘শেষ সতর্কবার্তা’ হিসেবে উল্লেখ করে তাকে নিজের নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত পরিচয়, ঢাকায় অবস্থান এবং চলাফেরা সম্পর্কেও তথ্য থাকার দাবি করা হয়েছে।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.