সিগারেটে জাল ব্যান্ডরোল শনাক্ত এবং অব্যবহৃত নকল ব্যান্ডরোল উদ্ধারের ঘটনায় মানিকগঞ্জের বিউটি টোব্যাকো কোম্পানি সিলগালা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
বুধবার (২৬ আগস্ট) এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১১ আগস্ট মানিকগঞ্জের শিবালয়ে অবস্থিত বিউটি টোব্যাকো কারখানায় অভিযান পরিচালনা করে মানিকগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের যৌথ দল।
অভিযানে জাল ব্যান্ডরোল ব্যবহারের সন্দেহে কিং ব্ল্যাক, ডি অ্যান্ড জি, ডলার, সেনর গোল্ড ও বারবি ব্র্যান্ডের মোট ৩ লাখ ৭০ হাজার সিগারেট এবং ১৩ হাজার অব্যবহৃত স্ট্যাম্প ব্যান্ডরোল জব্দ করা হয়।
পরবর্তীতে, জব্দ করা সিগারেট ও ব্যান্ডরোলের নমুনা যাচাইয়ের জন্য গত ১২ আগস্ট গাজীপুরে অবস্থিত সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন বাংলাদেশ লিমিটেডে পাঠানো হয়।
পরে গত ২৩ আগস্ট সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন পরীক্ষার ফলাফলে জানায়, ডলার ব্র্যান্ডের সিগারেটে ব্যবহৃত ব্যান্ডরোল এবং উদ্ধার করা অব্যবহৃত ব্যান্ডরোলগুলো জাল।
এনবিআর জানায়, জব্দ করা ৩ লাখ ৭০ হাজার সিগারেটের মধ্যে ৯০ হাজার সিগারেটে জাল ব্যান্ডরোল পাওয়া গেছে। এছাড়া উদ্ধার করা সব ১৩ হাজার অব্যবহৃত ব্যান্ডরোলই নকল বলে প্রমাণিত হয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িত অনিয়মের কারণে প্রযোজ্য শুল্ক ও করের পরিমাণ আনুমানিক ১১ লাখ ৩২ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে এনবিআর।
জাল ও অবৈধ ব্যান্ডরোল সংরক্ষণ এবং ব্যবহারের মাধ্যমে শুল্ক-কর ফাঁকির অভিযোগে ২৬ আগস্ট শিবালয় থানায় বিউটি টোব্যাকো কোম্পানির বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ২৫এ, ২৫বি, ২৫ডি ও ২৫ই ধারায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এনবিআর জানায়, মামলাটি ২৬ আগস্ট শিবালয় থানায় ২১ নম্বর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে বিউটি টোব্যাকো কোম্পানির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে কারখানাটি সিলগালা করা হয়েছে।
এনবিআর জানিয়েছে, অবৈধ তামাকজাত পণ্যের উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিপণনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তামাক খাত থেকে যথাযথ রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে জিরো টলারেন্স নীতির আওতায় এসব অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.