ভারতের উড়িষ্যা উপকূলের কাছে বঙ্গোপসাগরে একটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে যাওয়ার তিন দিন পর মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট ঘটনাস্থলের কাছ থেকে একটি লাইফবোট ও জরুরি বিপদসংকেত পাঠানোর যন্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন জাহাজটির ২২ নাবিক।
পানামার পতাকাবাহী এমভি ওশান উইনার নামের জাহাজটি ডুবে যাওয়ার পর শনিবার রাত থেকে ভারতীয় কোস্টগার্ড ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আসছে। জাহাজটিতে মোট ২৪ জন নাবিক ছিলেন। তাদের মধ্যে দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
কোস্টগার্ডের কর্মকর্তারা জানান, মঙ্গলবার অনুসন্ধানের সময় কোস্টগার্ডের জাহাজ আইসিজিএস ভারদ একটি জরুরি বিপদসংকেত শনাক্ত করে। পরে সেটি যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া যায়, সংকেতটি এমভি ওশান উইনারের জরুরি অবস্থান নির্দেশকারী রেডিও বীকন বা ইপিআইআরবি থেকে এসেছে।
কোস্টগার্ডের মুখপাত্র কমান্ড্যান্ট অমিত উনিয়াল বলেন, একটি নৌবাহিনীর বিমান আকাশপথে অনুসন্ধানের সময় বিপদসংকেত শনাক্ত করে এবং সেই সংকেতের অবস্থান আইসিজিএস ভারদকে জানায়। পরে কোস্টগার্ডের জাহাজটি ঘটনাস্থল থেকে বীকনটি উদ্ধার করে।
লাইফবোট মিললেও নেই কোনো নাবিক
মঙ্গলবার উদ্ধারকারী দল একটি লাইফবোটের সন্ধান পায়। পরে একটি দল লাইফবোটে উঠে সেটি পরীক্ষা করে। তবে সেখানে কোনো জীবিত নাবিককে পাওয়া যায়নি।
জাহাজটির নিখোঁজ ২২ নাবিককে উদ্ধারে ভারতীয় কোস্টগার্ডের পাশাপাশি চীনও সহযোগিতা করছে। চীনের মেরিটাইম সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ সেন্টার বেইজিং ভারতীয় কোস্টগার্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান চালাচ্ছে।
চীন এরই মধ্যে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করতে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজও পাঠিয়েছে।
নিখোঁজদের মধ্যে বাংলাদেশি নাবিকও
কর্মকর্তারা জানান, এমভি ওশান উইনারের ২৪ নাবিকের মধ্যে ২০ জন চীনের নাগরিক। তাদের মধ্যে ওই দুজনও রয়েছেন, যাদের জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া তিনজন মিয়ানমারের এবং একজন বাংলাদেশের নাগরিক।
নিখোঁজ নাবিকদের উদ্ধারে কোস্টগার্ডের জাহাজ, বিমান ও বাণিজ্যিক জাহাজ দিয়ে ব্যাপক এলাকায় অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে বলে জানান কোস্টগার্ডের মুখপাত্র অমিত উনিয়াল।
তিনি বলেন, নিখোঁজ নাবিকদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আরও কোস্টগার্ডের জাহাজ ও ওই এলাকায় থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে অনুসন্ধান কার্যক্রমে যুক্ত করা হচ্ছে।
মাত্র আট মিনিটে ডুবে যায় জাহাজ
কর্মকর্তারা জানান, এমভি ওশান উইনার রোববার গভীর রাতে ওডিশার পারাদ্বীপ উপকূল থেকে প্রায় ২৩০ নটিক্যাল মাইল বা ৪২৫ কিলোমিটার দূরে ডুবে যায়।
জাহাজটি প্রথমে একদিকে কাত হয়ে পড়ে এবং মাত্র আট মিনিটের মধ্যেই সমুদ্রে ডুবে যায় বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
জাহাজটিতে ৭২ হাজার টনেরও বেশি লৌহ আকরিক ছিল। উড়িষ্যা থেকে এসব আকরিক চীনে নিয়ে যাচ্ছিল জাহাজটি। পথে সিঙ্গাপুরে থামার কথা ছিল।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.