যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় দুই বছরের পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির অর্থমন্ত্রী আলি মাদানিজাদেহ বলেছেন, মার্কিন চাপ মোকাবিলায় ইরান প্রস্তুত এবং আগের মতো এবারও যুক্তরাষ্ট্র ব্যর্থ হবে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাদানিজাদেহ বলেন, ইরানের জনগণ ও কর্মকর্তাদের দৃঢ়তা পরীক্ষা করতে যুক্তরাষ্ট্র এর আগেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে প্রতিবারই তারা ব্যর্থ হয়েছে। এবারও যুক্তরাষ্ট্র ‘আরেক দফা পরাজিত’ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানের অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি দীর্ঘদিন ধরেই নেওয়া হচ্ছে। সরকার এ ধরনের পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল এবং এখনও প্রস্তুত রয়েছে। এ জন্য সরকারের দুই বছরের একটি পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে ইরানের অর্থনীতিকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ২৪ আগস্ট ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ইরানের তেলসহ আয়ের বিভিন্ন উৎসকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য দেশ ও কোম্পানি যাতে তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই এই পদক্ষেপের লক্ষ্য।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক ও বাণিজ্য সীমিত করার মতো অর্থনৈতিক সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের নেই। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোও ওয়াশিংটনের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট বলেন, ইরানের সরকারকে টিকিয়ে রাখে এমন সব অর্থনৈতিক ‘লাইফলাইন’ বিচ্ছিন্ন করাই ওয়াশিংটনের লক্ষ্য। তেহরান আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত এই পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নতুন কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’। বেসেন্ট এটিকে ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। এই কর্মসূচির আওতায় ইরানের অর্থনীতির পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাত—ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, সোনা, বিমান চলাচল ও নৌপরিবহন—লক্ষ্য করা হবে।
এ ছাড়া ইরানের সঙ্গে তেল কেনাবেচা ও বাণিজ্য করা দেশগুলোকে সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন। এসব দেশকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যেকোনো একটি পক্ষ বেছে নিতে হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী।
ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা বিদেশি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকগুলোও মার্কিন ‘সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞার’ আওতায় পড়তে পারে। অর্থাৎ নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত কোনো দেশের সঙ্গে ব্যবসা করা তৃতীয় দেশের প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির বিরুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা নিতে পারে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.