চলতি অর্থবছরে দেশের ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনতে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করবে সরকার। একই সঙ্গে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে দ্রুত নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সরকারের অন্যতম প্রধান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ফ্যামিলি কার্ডের দ্বিতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নে ৪৫৭ জন উপকারভোগীর হাতে কার্ড তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে এ পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হয়।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন অগ্রাধিকারের মধ্যে সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা মানুষের জন্য আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করাও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। দরিদ্র পরিবারের হাতে অর্থ পৌঁছালে তারা তা দ্রুত বাজারে ব্যয় করবেন। এতে বাজারে চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তার মতে, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের ফলে অর্থনীতিতে বহুগুণ প্রভাব তৈরি হতে পারে। এই অর্থের প্রবাহ নতুন ব্যবসা ও শিল্প প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি কর্মসংস্থানও বাড়াতে পারে।
এদিকে রাজধানীর বড় ও প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নিয়েও সরকারের নতুন উদ্যোগের কথা জানান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাজধানীর বিভিন্ন প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল বেড়েছে। এতে মানুষের যাতায়াতে কিছুটা সুবিধা হলেও যানজটসহ নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি চালকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ঘাটতি এবং এসব যানবাহনের কারিগরি মান ও নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, কোন এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা চলতে পারবে, কতটুকু এলাকায় চলাচলের অনুমতি থাকবে এবং যানবাহনের মান কেমন হতে হবে—নীতিমালায় এসব বিষয় নির্ধারণ করা হবে।
এর মাধ্যমে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচলে শৃঙ্খলা আনা এবং জনসাধারণের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন উপদেষ্টা।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.