ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ: তথ্যমন্ত্রী

জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার প্রতিনিয়ত দেশবাসীর কাছে জবাবদিহি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, সরকারের ৫ বছর মেয়াদের প্রথম ১৮০ দিন ছিল রাষ্ট্র ও সমাজের বিদ্যমান ধ্বংসস্তূপের জঞ্জাল পরিষ্কার করার পর্ব, যা ভবিষ্যৎ পরিকল্পিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উপযোগী ও সুদৃঢ় ভিত্তি তৈরি করেছে।

সোমবার সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ড ও অগ্রগতি জনগণের সামনে তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্রিফিংয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণবিস্ফোরণ ও গণবিদ্রোহ ছিল দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী) তারেক রহমানের স্বদেশে প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে লাখো-কোটি মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল জনগণের সেই ক্ষোভের বিপরীতে ভবিষ্যৎ পুনর্গঠনের প্রত্যাশা ও স্বপ্নের রূপকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘একইভাবে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর বাংলাদেশের গণতন্ত্রের দীর্ঘ সংগ্রামের প্রধান নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে মানুষের যে অভূতপূর্ব ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন, তা ছিল জনগণের আরেকটি শক্ত প্রতীকী বার্তা। অর্থাৎ ৫ আগস্টের ক্ষোভ, ২৫ ডিসেম্বরের ভালোবাসা-আস্থা এবং ৩১ ডিসেম্বরের শ্রদ্ধা ও সংহতি-এই তিনটি ঘটনাই আজকের বাংলাদেশ পরিচালনায় আমাদের মূল অনুপ্রেরণা।’

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জনগণ তাদের দীর্ঘদিনের অপহৃত ভোটাধিকার ফিরে পেয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে স্পষ্ট ম্যান্ডেট দিয়েছে এবং সেই ম্যান্ডেট নিয়েই তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার পরিচালিত হচ্ছে। সরকার জানে যে জনগণের কাছে তাদের জবাবদিহিতার দায় রয়েছে। নিয়মিতভাবে জনগণের সামনে এসে কর্মকাণ্ড তুলে ধরা এবং সাংবাদিকদের সকল প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মাধ্যমেই এই জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।

নতুন ভবন নির্মাণের উপমা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ধ্বংসস্তূপের ওপর নতুন ভবন নির্মাণের আগে জঞ্জাল পরিষ্কার করা আবশ্যক। ঠিক একইভাবে বিগত শাসনের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে পুনর্গঠন করতে হচ্ছে, যাতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ঐতিহাসিক ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বাস্তবসম্মত ও টেকসই কর্মসূচিতে রূপ দেওয়া যায়। সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের মূল লক্ষ্যই ছিল রাষ্ট্রকে নতুন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পূর্ণ উপযোগী করে তোলা। প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষত চিহ্নিত করে তা মেরামত করা এবং ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রার পথ সুগম করাই ছিল এই পর্বের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে ঘোষিত দলীয় ইশতেহার ও পরিকল্পনার কতটুকু এ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়েছে, তার ধারাবাহিক চিত্র প্রতিনিয়ত জনগণের সামনে প্রকাশ করা হবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রাথমিক পুনর্গঠনের এই কঠিন পর্ব অতিক্রম করে জনগণের সব প্রত্যাশা পূরণ করতে সরকার সফল হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.