সরকার দায়িত্বশীলতা ও সহনশীলতার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করছে: মাহদী আমিন

গত ছয় মাসে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, জনগণের অংশগ্রহণ ও সহনশীলতার প্রতিফলন ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, নানা ধরনের উস্কানি ও সমালোচনা সত্ত্বেও সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পথে না গিয়ে ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘শাপলা’ হলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং আয়োজিত এক বিশেষ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জনগণের প্রত্যাশা ও নির্বাচনী ইশতেহারকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের প্রতিটি কর্মকাণ্ডে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা রয়েছে। একই সঙ্গে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসকে ধারণ করে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গত ছয় মাসে বিভিন্ন সময় উস্কানিমূলক বক্তব্য ও অশোভন আচরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব পরিস্থিতিতে সরকার সর্বোচ্চ ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছে। জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্রের চেতনাকে ধারণ করেই বর্তমান সরকার এগিয়ে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা আরও বলেন, গত ছয় মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রধানমন্ত্রীর গণসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। এর মধ্য দিয়ে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা ও সমর্থনের প্রতিফলন ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।

বাকস্বাধীনতা প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে সরকার সর্বোচ্চ সুযোগ নিশ্চিত করেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বক্তব্য বা আচরণ সীমা ছাড়িয়ে গেলেও তা রাজনৈতিক নিপীড়নের মাধ্যমে দমন করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সংসদে বিভিন্ন বিষয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা ও বিতর্ক হচ্ছে। সংসদ সদস্যরা পরস্পরের বক্তব্যের সমালোচনা করার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে যৌক্তিক মতামত তুলে ধরছেন। এটিকে গণতান্ত্রিক চর্চার ইতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

মাহদী আমিন জানান, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংসদের প্রথম অধিবেশনেই শতাধিক অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তর করা হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে রাষ্ট্রীয় ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও কৃষি উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, রাজনৈতিক ও শিল্প উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.