খেলাপি বিনিয়োগ আদায় ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসিতে বিশেষ ‘কালেকশন অ্যান্ড রিকভারি ওয়ার রুম’ গঠন করা হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) ব্যাংকের করপোরেট হেড অফিসের সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এর কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদার।
অনুষ্ঠানে ব্যাংকের বিনিয়োগ আদায়ের বর্তমান পরিস্থিতি, বড় বিনিয়োগগ্রহীতাদের কাছ থেকে অর্থ পুনরুদ্ধারের কৌশল, নির্ধারিত কালেকশন টার্গেট, প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে পাঁচটি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন নির্বাহী এবং রিকভারি ও লিগ্যাল বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংকের সব সম্পদ ও দায় হস্তান্তরের মাধ্যমে গঠিত একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটির মূলধন কাঠামো ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা এবং আমানতকারীদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১৫ হাজার কোটি টাকা।
বর্তমানে ব্যাংকটির অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো খেলাপি ও অনাদায়ী বিনিয়োগ দ্রুত আদায় ও পুনরুদ্ধার করা। আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং তাদের অর্থ ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে বিনিয়োগ আদায়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
নতুন ওয়ার রুমের মাধ্যমে বিনিয়োগ আদায় ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বয়, পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করা হবে। বড় বিনিয়োগগ্রহীতাদের ওপর নিবিড় নজরদারি ও নিয়মিত ফলোআপের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, কালেকশন অ্যান্ড রিকভারি কার্যক্রমকে শুধু নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম হিসেবে দেখলে হবে না; এটি আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং ব্যাংকের আর্থিক পুনর্গঠনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
তিনি বলেন, দ্রুত ও কার্যকরভাবে খেলাপি বিনিয়োগ আদায় করা গেলে ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা ও তারল্য পরিস্থিতি শক্তিশালী হবে। এর ফলে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার সক্ষমতাও বাড়বে।
আবেদুর রহমান সিকদার আরও বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক এখন একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। এর সফলতা ও অর্জন জাতীয় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হবে। ব্যাংকে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি এটিকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও গ্রাহকবান্ধব ইসলামী ব্যাংক হিসেবে গড়ে তুলতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘কালেকশন অ্যান্ড রিকভারি ওয়ার রুম’-এর সমন্বিত ও নিবিড় কার্যক্রমের মাধ্যমে বিনিয়োগ আদায়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে এবং ব্যাংকের আমানতকারী, গ্রাহক ও অন্যান্য অংশীজনের স্বার্থ আরও কার্যকরভাবে সুরক্ষিত হবে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.