সৌদির রিয়াদে সোফা কারখানায় আগুন, প্রাণ গেল ১৬ বাংলাদেশির

সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশির সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১০ জন এবং নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার তিনজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। বাকি তিনজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে আত্রাই উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের কলি, লুৎফর, জান্ডার, রুবেল, বিষা এলাকার সাগর, মজিদুল, দুবাই এলাকার শুভ, সুমন, পারকাসুন্দা গ্রামের জালাল এবং উদনপৈ গ্রামের মো. ফরিদ শেখ রয়েছেন।

নাটোরের নিহত তিনজন হলেন নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুরা ইউনিয়নের দিঘির পাড় গ্রামের শামীম হোসেন, শ্রীপুর গ্রামের সাব্বির হোসেন এবং মহিষডাঙ্গা গ্রামের রবিউল আউয়াল।

অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাকি তিনজনের মরদেহের পরিচয় শনাক্তে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস ও স্থানীয় প্রশাসন ডিএনএ পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার কাউন্সেলর মো. রেজা রাব্বির মাধ্যমে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চালানো স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ১৬ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, রোববার বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সৌদি আরবের রিয়াদের খোরদাম শহরের একটি সোফা তৈরির কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। এতে কারখানায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকরা দগ্ধ হয়ে মারা যান।

জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে যাওয়া এসব শ্রমিকের মৃত্যুর খবরে তাদের নিজ নিজ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের মধ্যে চলছে আহাজারি।

এদিকে একসঙ্গে এতজন বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

তিনি বলেন, দেশে কিংবা বিদেশে—সব জায়গায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো সরকারের দায়িত্ব।

নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং স্বজনদের প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.