বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে চট্টগ্রাম যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজ নিতে আগামীকাল রোববার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রাম সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীতে বন্যাদুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি ঘরবাড়ি হারানো মানুষের জন্য নির্মিত ১০০টি নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর করবেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, সফরে চট্টগ্রামের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ কোনো ঘোষণা দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।

জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহজুড়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বন্যায় কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এতে প্রায় ২৬ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। ঘরবাড়িসহ বন্যায় মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা।

প্রধানমন্ত্রীর অবতরণের জন্য বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্রসৈকতে হেলিপ্যাড প্রস্তুত করা হয়েছে। সেখানে রোববার দুপুর ১২টায় আয়োজিত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে সেখানে মঞ্চ তৈরির কাজও চলছে।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও উৎসাহ দেখা দিয়েছে। পশ্চিম বাঁশখালীর বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধের কারণে দুর্ভোগে রয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর সফরে বেড়িবাঁধের সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাঁশখালীতে বন্যায় গৃহহারা মানুষের মধ্যে নবনির্মিত ১০০টি ঘরের চাবি হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি বন্যাদুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করবেন তিনি। এসব ঘরের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে বাঁশখালীর মানুষ উৎসুক হয়ে আছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে রোববার ঘরের চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠান হবে।’

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘বন্যায় যেসব মানুষের ঘর পুরোপুরি ভেঙে গেছে, তাঁদের মধ্যে ১০০টি ঘর দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী এসব ঘরের চাবি হস্তান্তর করবেন।’

বাঁশখালী থেকে দুপুরে হেলিকপ্টারে উত্তর চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির পেলাগাজি দিঘির মাঠে যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এ জন্য সেখানে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সেখানে হেলিকপ্টার মহড়াও হয়েছে। এরপর তাঁর বাবুনগর মাদ্রাসা ও হাটহাজারী বড় মাদরাসায় যাওয়ার কথা রয়েছে।

হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠেও বন্যাদুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ ও নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে নগরের রেডিসন ব্লু হোটেলে উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে দলের নেতা-কর্মীরা আরও চাঙা হবেন। একই সঙ্গে দলের সাংগঠনিক ভিত আরও মজবুত হবে।’

১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯৬ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নে সফর করেছিলেন। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর চট্টগ্রামে তারেক রহমানের এটি প্রথম সফর। তাঁর আগমন ঘিরে বাঁশখালীতে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে চট্টগ্রামের উন্নয়নে বড় ধরনের ঘোষণা আসতে পারে। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরের উপকূলে বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক আট লেনে উন্নীতকরণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন চট্টগ্রামবাসী।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.