পটপরিবর্তনে ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত ১০ হাজার ব্যাংকারের পুনর্বহালের দাবি

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি থেকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি জানান।

লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগীরা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কোনো ধরনের নোটিশ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের কয়েকটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক থেকে প্রায় ১০ হাজার দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

তাদের দাবি, ব্যাংকের মানবসম্পদ নীতিমালা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসারেই তারা চাকরিতে নিয়োগ পেয়েছিলেন। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ‘স্পেশাল কম্পিটেন্সি অ্যাসেসমেন্ট’ নামে একটি পরীক্ষার আয়োজন করে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, এটি ছিল চাকরিচ্যুতির একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়া। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনার প্রতি সম্মান জানিয়ে তারা ওই পরীক্ষায় অংশ নেননি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, চাকরিচ্যুতদের অনেকেই চার থেকে সাত বছর ধরে কর্মরত ছিলেন। তাদের মধ্যে কেউ মাতৃত্বকালীন ছুটিতে, কেউ ওমরাহ পালনে, আবার কেউ চিকিৎসার জন্য বিদেশে অবস্থান করলেও কোনো বিষয় বিবেচনা না করেই চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এতে গত দেড় বছর ধরে হাজারো পরিবার চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটে রয়েছে। এমনকি চিকিৎসার অভাব ও মানসিক চাপের কারণে কয়েকজন কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়।

ভুক্তভোগীরা জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তারা সমস্যার সমাধানের আশা করেছিলেন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে। তবে পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলন থেকে সরকারের কাছে তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো— অবিলম্বে সব চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিতে পুনর্বহাল, চাকরিচ্যুত সময়ের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধ এবং চাকরিচ্যুতদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক, আঞ্চলিক বা গোষ্ঠীগত পরিচয়ের ভিত্তিতে অপপ্রচার ও মানহানিকর বক্তব্য বন্ধ করা।

ভুক্তভোগীদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এম মনছুর আলম, মো. ইসকান্দর সুজনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী। তারা জানান, দ্রুত দাবি বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.