চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ১ হাজার ২৮ কোটি টাকা লোকসান করেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। এর ফলে ২০২৬ হিসাববছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকটির মোট লোকসান দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩১৬ কোটি টাকায়।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্যে ব্যাংকটি এ তথ্য জানিয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, মূলত বিনিয়োগ থেকে আয় কমে যাওয়া এবং খেলাপি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংকটি এ লোকসানের মুখে পড়েছে।
সর্বশেষ দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত লোকসান হয়েছে ৬ টাকা ৩৯ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল শূন্য দশমিক ২৪ টাকা।
ব্যাংকটির ভাষ্য, আমানতের বিপরীতে মুনাফা পরিশোধের ব্যয় বেড়েছে এবং খেলাপি বিনিয়োগ থেকে আয় কমেছে। পাশাপাশি অন্যান্য ব্যাংকে সংরক্ষিত আমানত থেকেও আয় হ্রাস পাওয়ায় শেয়ারপ্রতি আয় কমেছে।
তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। সম্পদের গুণগত মান উন্নয়ন, বিনিয়োগ পুনরুদ্ধার জোরদার এবং আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপের ফলে ভবিষ্যতে আয় ও শেয়ারপ্রতি আয় বাড়বে বলে আশা করছে ব্যাংকটি।
চলতি হিসাববছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ৯ টাকা ৬৬ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৭ টাকা ৬৮ পয়সা। মূলত এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে আমানতের পরিমাণ কমে যাওয়ায় নগদ প্রবাহও হ্রাস পেয়েছে।
এদিকে দুর্বল আর্থিক ফল প্রকাশের পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের দাম ২ দশমিক ৮২ শতাংশ কমে ৩১ টাকায় নেমে এসেছে।
২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটির ৭৫ দশমিক ০৮ শতাংশ শেয়ার বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ১৭ দশমিক ৯১ শতাংশ শেয়ার। বাকি শেয়ার স্পন্সর, পরিচালক, সরকার এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানায় রয়েছে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.