এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) বাংলাদেশ কার্যালয়ের নতুন কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন চিংফেং ঝাং। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) তিনি ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছে এডিবি।
এডিবির ঢাকা কার্যালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ দেশভিত্তিক কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেবেন চিংফেং ঝাং। তিনি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এডিবির দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করবেন, বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে কৌশলগত নীতিসংলাপে নেতৃত্ব দেবেন এবং বাংলাদেশের জন্য এডিবির পরবর্তী উন্নয়ন কৌশল প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর এক বার্তায় চিংফেং ঝাং বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া তার জন্য গর্বের বিষয়। গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করেছে। মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জলবায়ু ও অন্যান্য প্রতিকূলতা মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি, বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে এডিবি সরকার ও উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, উন্নত অর্থায়ন ব্যবস্থা, জ্ঞানভিত্তিক সমাধান এবং কার্যকর বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় এডিবি ভবিষ্যতেও সহায়তা অব্যাহত রাখবে।
চিংফেং ঝাংয়ের টেকসই উন্নয়ন খাতে ৩০ বছরের বেশি পেশাগত অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর মধ্যে ২০ বছরেরও বেশি সময় তিনি এডিবির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। কৃষি, খাদ্যব্যবস্থা, পানি সম্পদ, পরিবেশ, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং গ্রামীণ উন্নয়ন খাতে তিনি একাধিক রূপান্তরমূলক কর্মসূচি ও কৌশলগত উদ্যোগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি সরকার, উন্নয়ন সংস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
বর্তমান দায়িত্বে যোগ দেওয়ার আগে তিনি এডিবির অ্যাগ্রিকালচার, ফুড, নেচার অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট সেক্টর অফিসের সিনিয়র ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওই পদে তিনি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই ও স্থিতিস্থাপক উন্নয়ন কৌশল বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেন।
চীনের নাগরিক চিংফেং ঝাং সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিবেশ প্রকৌশলে ডক্টরেট, সিচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর এবং হাইড্রোলজিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়া হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল থেকে বিশেষায়িত পেশাগত প্রশিক্ষণও নিয়েছেন।
বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালে এডিবির সদস্য হয়। ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত দেশে এডিবির সরকারি ও বেসরকারি খাতের চলমান ঋণ, অনুদান ও প্রকল্প অর্থায়নের পরিমাণ প্রায় ১২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। এ পর্যন্ত বাংলাদেশের উন্নয়নে প্রায় ৪৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ ও অনুদান অনুমোদন করেছে সংস্থাটি। আগামী কয়েক বছরে টেকসই প্রবৃদ্ধি, দুর্যোগ মোকাবিলা, আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং জীবনমান উন্নয়নে সহায়তার জন্য প্রতিবছর প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের পরিকল্পনা রয়েছে এডিবির।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.