শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি মানার পর তরুণ বিক্ষোভকারীদের আরও দুই দাবি মেনে নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার। এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, তাদের দাবি ছিল বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে যেসব এফআইআর বা অভিযোগ দায়ের হয়েছে সেগুলো তুলে নিতে হবে। এখন তাদের এ দাবিও মেনে নেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার পর যেসব শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে, তাদের পরিবারকে সম্মানসূচক ক্ষতিপূরণ দিতেও রাজি হয়েছে সরকার।
সিজেপির নেতারা এ ব্যাপারে শনিবার (২৫ জুলাই) বলেছেন, “আমাদের দ্বিতীয় দাবি ছিল বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে করা সব এফআইআর—শুধুমাত্র দিল্লি নয়, বিজেপি শাসিত ও বিজেপির মিত্রদের শাসিত যেসব রাজ্যে এফআইআর দায়ের হয়েছে সেগুলো তুলে নিতে হবে। সরকার আমাদের এই দাবিও মেনে নিয়েছে। এফআইআর প্রত্যাহার অল্প সময়ের মধ্যে হবে।”
তারা আরও বলেছেন, “সরকার আমাদের নিশ্চিত করেছে যেসব এফআইআর দায়ের করা হয়েছে, তার সবগুলোর কপি আমাদের কাছে দেবে। আমাদের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দিল্লিতে ১৫ থেকে ২০টি এফআইআর দায়ের হয়েছে। আমরা এগুলোর কপি তিন থেকে চার দিনের মধ্যে পাব। সরকার আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এগুলো অল্প সময়ে প্রত্যাহার করা হবে। এটির প্রেক্ষিতে আমরা সরকারের কাছে একটি খসড়া কাগজ জমা দিয়েছি, যেটি একটি লিখিত গ্যারান্টি। সরকার আমাদের বলেছে মঙ্গলবারের মধ্যে তারা আমাদের লিখিত দেবে। আমাদের আশা, মঙ্গলবারের মধ্যে সেসব এফআইআর এবং ভবিষ্যৎ ব্যবস্থা নিয়ে আমরা লিখিত গ্যারান্টি পাব।”
অপরদিকে ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে সিজেপির অন্যতম নেতা সৌরভ দাস বলেছেন, “সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আমাদের আশ্বস্ত করেছে, যেসব শিক্ষার্থী মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার কারণে আত্মহত্যা করেছেন, তাদের পরিবারকে সম্মানসূচক ক্ষতিপূরণ দেবে।”
ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে দুই মাসের বেশি সময় ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করছিল তরুণরা। তাদের প্রধান দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে, যা শনিবার সকালে পূরণ হয়েছে। এরপর তারা ক্ষতিপূরণ, এফআইআর প্রত্যাহার এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জ ও মারধর করা পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিল। এর সঙ্গে সরকারকে ক্ষমাও চাইতে বলেছিল।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.