ইস্ফাহান, নাতাঞ্জ ও ফার্দো শহরের পারমাণবিক কর্মসূচি-সংক্রান্ত যন্ত্র, যন্ত্রাংশ এবং পরিবহনযোগ্য সরঞ্জাম পিকাক্স পর্বতের পাদদেশে ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নির্মিত একটি গোপন গবেষণাগারে স্থানান্তর শুরু করেছে ইরান।
মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, ইতোমধ্যে কয়েক হাজার সেন্ট্রিফিউজসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ওই গোপন গবেষণাগারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য সেন্ট্রিফিউজকে অপরিহার্য উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাত শেষ হওয়ার পর নাতাঞ্জের কাছে পাথুরে পিকাক্স পর্বতের পাদদেশে গবেষণাগারটির নির্মাণকাজ শুরু করে ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার। ডিসেম্বরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ইস্ফাহান, নাতাঞ্জ ও ফার্দো থেকে পারমাণবিক কর্মসূচি-সংক্রান্ত সরঞ্জাম স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যমতে, গবেষণাগারটির ওপর প্রায় ৩০০ ফুট পুরু কঠিন গ্রানাইট শিলার স্তর রয়েছে। ফলে শক্তিশালী বিস্ফোরণেও স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত করা কঠিন হতে পারে।
জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেন, ২০২১ সালে ইরান পারমাণবিক কার্যক্রম পিকাক্স পর্বতের দিকে স্থানান্তরের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। তবে এরপর থেকে এ বিষয়ে তেহরান জাতিসংঘকে আর কোনো তথ্য দেয়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, পিকাক্স পর্বতে মার্কিন বাহিনী হামলা চালাতে পারে। গত সপ্তাহে তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র খুব সম্ভবত পিকাক্স পর্বতকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করবে।”
তবে এরপর এ বিষয়ে তিনি আর বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেননি।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.