দুর্নীতির মামলায় রূপালী ব্যাংকের লক্ষ্মীপুরের রামগতি বাজার শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক আব্দুল মজিদকে ২৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া তার নামে থাকা ১ কোটি ২৪ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে নোয়াখালীর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শওকত আলী এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি দুদকের জনসংযোগ দপ্তর জানিয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল মজিদ লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার কাফিলাতলি গ্রামের মৃত আমিনুল হকের ছেলে।
দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালের ১৪ নভেম্বর থেকে ২০১৩ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত রামগতি বাজার শাখায় কর্মরত থাকাকালীন আব্দুল মজিদ ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশনের অর্থসহ বিভিন্ন হিসাব থেকে মোট ১ কোটি ২৪ লাখ ১৫ হাজার ৪৪৩ টাকা আত্মসাৎ করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ওই সময়ে তিনি রূপালী ব্যাংকের রামগতি বাজার শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্বে থাকাকালে গ্রাহকদের সঞ্চয় এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশনের ১৬ লাখ ৩০ হাজার ২৩১ টাকাসহ মোট ১ কোটি ২৪ লাখ ১৫ হাজার ৫৪৩ টাকা আত্মসাৎ করেন। বিষয়টি তদন্তে উঠে আসার পর ২০১৩ সালের ৮ জুন এ ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের রামগতি থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আদালতের রায়ে দণ্ডবিধির দুটি পৃথক ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে আব্দুল মজিদকে ২৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাকে আরও ১৮ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। পাশাপাশি আত্মসাৎকৃত ১ কোটি ২৪ লাখ ১৫ হাজার ৪৪৩ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় আব্দুল মজিদ পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। একই মামলায় অপর দুই আসামি আব্দুল ওয়াহেদ ও আবুল কালামের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের বেকসুর খালাস দিয়েছেন।
মামলাটি পরিচালনা করেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), নোয়াখালীর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জহির উদ্দিন।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.