গাজা উপত্যকাকে কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত করতে দ্রুতগতিতে একটি বিশাল মাটির বাঁধ নির্মাণ করছে ইসরায়েল। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইতোমধ্যে ২৩ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ এই বাঁধ নির্মাণ শেষ হয়েছে, যা গাজার মোট দৈর্ঘ্যের অর্ধেকেরও বেশি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। বাঁধটি এমন কয়েকটি ফিলিস্তিনি জনপদের ওপর দিয়ে নির্মিত হয়েছে, যেগুলো আগে থেকেই ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, গত বছরের যুদ্ধবিরতির সময় নির্ধারিত ‘ইয়েলো লাইন’ বরাবর এই ভৌত প্রতিবন্ধক নির্মাণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ওই এলাকায় উন্নত গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা বলয়ও গড়ে তোলা হয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর ফিলিস্তিনিদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, এই অস্থায়ী বিভাজন রেখাই ভবিষ্যতে স্থায়ী সীমান্তে রূপ নিতে পারে। এছাড়া ইয়েলো লাইনের আশপাশে গেলে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে শিশু ও বেসামরিক নাগরিকসহ বহু ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
এদিকে গাজার মধ্যাঞ্চলের আল-জাহরা এলাকায় একটি বেসামরিক গাড়িকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত দুই ফিলিস্তিনি নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ২৯৩ জনে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের সঙ্গে যৌথ অভিযানে হামাসের গাজা সিটি ব্রিগেডের অপারেশন বিভাগের প্রধান আধাম ইব্রাহিম শাবান নাসমানকে হত্যা করা হয়েছে।
এদিকে গাজায় আটক ফিলিস্তিনি চিকিৎসকদের অবিলম্বে মুক্তি, স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর নির্যাতন বন্ধ এবং চিকিৎসা সেবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ), অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ ও কূটনৈতিক চাপ জোরদার করেছে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.