সৌদি আরবে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। প্রায় চার মাসের মধ্যে উপসাগরীয় দেশটির বিরুদ্ধে এই প্রথম সরাসরি হামলা চালানো হয়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদকের বরাতে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু বা ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে ওই পোস্টে অতিরিক্ত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি বলে এ সংবাদ প্রকাশ করেছে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি।
এর আগে গত এপ্রিলের শুরুতে সৌদি আরবের জুবাইল পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে হামলার মাধ্যমে সর্বশেষ সৌদি ভূখণ্ডে আঘাত হেনেছিল ইরান।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার মধ্যেই এই হামলার খবর সামনে এলো।
প্রসঙ্গত, জেনেভা শহরে আলোচনা চলাকালে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। এতে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এর প্রতিবাদে ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান।
এরপর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠক করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় ১৩ এপ্রিল হরমুজে নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়। এরপর কয়েক দফা যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ান ট্রাম্প।
সর্বশেষ, ইরানের ১৪ দফা শর্তের ভিত্তিতে গত ১৮ জুন একটি সমঝোতায় পৌঁছায় দুই পক্ষ। অ্যাক্সিওসের সংবাদের তথ্য অনুযায়ী, ১৪ দফার ভিত্তিতে দুই পক্ষ ৬০ দিনের জন্য আলোচনায় সম্মত হয়েছে এবং ইরানের ওপর হামলা তথা যুদ্ধ বন্ধের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হয়েছে।
হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা ইস্যুতে গত সপ্তাহে ফের সংঘাতে জড়িয়েছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন শহর ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। এর জবাবে কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সিরিয়ায় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইরান।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.