বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি আইআরজিসির

বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপের মাধ্যমে মার্কিন বাহিনীর জল-ড্রোন ডিপো এবং প্রধান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেন্দ্র ধ্বংসের দাবি করেছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।

শনিবার এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, গত ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিমানবন্দর এবং অন্যান্য সামরিক স্থাপনায় হামলার মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধ করেছে মার্কিন বাহিনী। এই হামলার জবাব দিতেই বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বাহরাইনে মার্কিন বাহিনীর এই দুই সেনাস্থাপনাকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হামলায় কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। হামলায় ডিপোতে থাকা জল-ড্রোনগুলোর বেশিরভাগই পুড়ে গেছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেন্দ্র সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে বলেও দাবি করেছে আইআরজিসি।

একই সঙ্গে আইআরজিসি দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও বেসামরিক সব স্থাপনাই তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে।

তবে বাহরাইন কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে এই দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে গত ৫ জুলাই হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলার পর তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়। ওই ঘটনার দুই দিন পর, ৮ জুলাই তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে।

ট্রাম্প বলেন, “ইরানের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে। সম্প্রতি তারা হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে, যা ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন। ইরানে ক্ষমতাসীন সরকারের নেতারা অসুস্থ এবং নিকৃষ্ট। আমি মনে করি, হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর তাদের সঙ্গে শান্তিচুক্তির জন্য আলোচনা করা সময় নষ্ট করা ছাড়া আর কিছু নয়।”

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর ১১ জুলাই থেকে প্রতি রাতে ইরানে সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে সেন্টকম। শুক্রবার টানা সপ্তম রাতের মতো অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সেন্টকমের হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও সেনাস্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করছে আইআরজিসি।

শুক্রবার রাতে সেন্টকমের অভিযানের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যদি এমন হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে ইরান শুধু পাল্টা হামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে নামবে এবং সে ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো রাজনৈতিক সীমান্তই সুরক্ষিত থাকবে না।”

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.