ফ্রান্সকে বিদায় করে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন

বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ছিলো দুই ইউরোপীয় পরাশক্তির মহারণ। একদিকে এমবাপ্পের ফ্রান্স, অন্যদিকে লামিন ইয়ামালের স্পেন। তবে মাঠে নামার পর লড়াইটা যতটা জমবে বলে মনে করা হয়েছিল, বাস্তবে তার চেয়েও বেশি পরিণত ও নিয়ন্ত্রিত ফুটবল খেলেই ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে স্পেন।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে অন্যতম ভয়ংকর আক্রমণভাগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল ফ্রান্সকে। কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান ডেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসের মতো তারকাদের নিয়ে গড়া সেই আক্রমণভাগকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছে স্পেন। দুর্দান্ত রক্ষণ, কৌশলী মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রণ এবং সুযোগের নিখুঁত ব্যবহার করে জয় তুলে নেয় লা রোজারা।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে শুরু থেকেই পরিকল্পিত ফুটবল খেলেছে স্পেন। ম্যাচের ২২তম মিনিটে লামিন ইয়ামালের ওপর বক্সের ভেতর ফাউল করেন ফ্রান্সের ডিফেন্ডার লুকাস দিনিয়ে। উঁচুতে ভাসতে থাকা বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ইয়ামালকে লাথি মারায় পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। স্পটকিক থেকে কোনো ভুল করেননি স্পেনের স্ট্রাইকার মাইকেল ওয়ারসাবাল। তার গোলে প্রথমার্ধেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্পেন।

বিরতির পর সমতায় ফেরার লক্ষ্যে আক্রমণ বাড়ানোর চেষ্টা করে ফ্রান্স। তবে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায় ম্যাচের শুরুতেই। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৩তম মিনিটে দানি অলমোর নিখুঁত পাস থেকে গোল করে স্পেনের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাইট ব্যাক পেদ্রো পোরো। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের দখলে রেখে ফ্রান্সকে কোনোভাবেই ছন্দে ফিরতে দেয়নি স্প্যানিশরা।

পরিসংখ্যানেও স্পেনের আধিপত্য স্পষ্ট। ফ্রান্স ৪৯ শতাংশ বল দখলে রেখে ১৪টি আক্রমণ গড়লেও গোলমুখে মাত্র চারটি শট নিতে সক্ষম হয়। এর মধ্যে স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমনকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পেরেছে মাত্র দুটি প্রচেষ্টা। অন্যদিকে স্পেন তুলনামূলক কম আক্রমণ করলেও প্রতিটি সুযোগ তৈরি করেছে পরিকল্পিতভাবে এবং দুটি গোলেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে।

পুরো ম্যাচে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের কৌশলই পার্থক্য গড়ে দেয়। দুই গোলের লিড নেওয়ার পর ছোট ছোট পাসে খেলা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি প্রয়োজনমতো লম্বা ব্যাক পাসে বারবার ফ্রান্সের আক্রমণের গতি ভেঙে দেয় তারা। মিডফিল্ডে রদ্রির নেতৃত্বে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ফ্রান্সের তারকাবহুল আক্রমণভাগকে কার্যত নিষ্প্রভ করে রাখে স্পেন।

এই জয়ে ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল স্পেন। এর আগে ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে প্রথমবার শিরোপা জিতেছিল তারা। এবার ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে লামিন ইয়ামাল, রদ্রি, দানি অলমোদের স্পেন। ইউরো চ্যাম্পিয়নদের সামনে এখন দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের হাতছানি।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.