তৃণমূলের সভানেত্রী হিসেবে আর নিজেকে পরিচয় দিতে পারবেন না মমতা: আদালত

তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক নেতৃত্ব ও দলীয় কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে নতুন করে আইনি বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আলিপুরের একটি আদালত অন্তর্বর্তী নির্দেশে দাবি অনুযায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের শীর্ষ পদাধিকারী হিসেবে পরিচয় দেওয়া, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দলের নামে কোনো নির্দেশ জারি থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

মামলাটি দায়ের করেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক নেত্রী জুঁই বিশ্বাস। তিনি দাবি করেন, দলের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, আর্থিক সম্পদ ও ব্যাংক হিসাবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত জরুরি ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করেন।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের প্রশাসনিক কার্যক্রম, নিয়োগ, নির্দেশনা প্রদান এবং দলীয় ব্যাংক হিসাব, অর্থ, নথিপত্র ও সম্পত্তি সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবেন না বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিক্ষুব্ধ নেতাদের গঠিত ওয়ার্কিং কমিটির কার্যক্রমেও তিনি কোনো ধরনের বাধা দিতে পারবেন না বলেও নির্দেশে বলা হয়েছে।

এদিকে, বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গঠিত নতুন তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবে দাবি করেছে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজ্যের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিধায়ক তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে সেই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

মামলার বিষয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আদালতের নির্দেশ মেনে তারা সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। অন্যদিকে, তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আদালতের অন্তর্বর্তী আদেশ পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, আদালত এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়ার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষের বক্তব্য শোনেননি। বিচারক জানিয়েছেন, জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় এই আদেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক বৈধতা সম্পর্কিত বিষয়ও পরবর্তী শুনানিতে বিবেচনা করা হবে।

আগামী ৬ আগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার কথা রয়েছে।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.