পুঁজিবাজারের উত্থানকে রাজনৈতিক সাফল্য দেখাচ্ছেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুঁজিবাজারের উত্থানকে অর্থনৈতিক সাফল্যের প্রধান সূচক হিসেবে তুলে ধরছেন। তবে শেয়ারবাজারের রেকর্ড উত্থান দেশটির অর্থনীতির বাস্তব চিত্র প্রকাশ পায় না বলে মনে করছে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।

খবর রয়টার্সের।

তারা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিপুলসংখ্যক মানুষের শেয়ারবাজারে কোনো বিনিয়োগ নেই। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের অর্ধেকেরও বেশি শীর্ষ ১ শতাংশ ধনী মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত। ফলে বাজারে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হলেও এর সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় না।

এদিকে সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস’ নামে একটি সরকারি বিনিয়োগ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন ট্রাম্প। এ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প প্রতীকীভাবে নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ (এনওয়াইএসই) ও নাসডাকের উদ্বোধনী ঘণ্টা বাজান।

এ সময় তিনি রেকর্ড উচ্চতায় থাকা পুঁজিবাজারকপ তাঁর সরকারের অর্থনৈতিক নীতির সফলতার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন।

নতুন এই কর্মসূচির লক্ষ্যের বিষয়ে হোয়াইট হাউস জানায়, আরও বেশি মার্কিন পরিবারকে বিনিয়োগের আওতায় আনা এবং পারিবারিক সম্পদ সৃষ্টির সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে পরিকল্পনা রয়েছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শেয়ারবাজারের উত্থানকে অর্থনীতির একমাত্র সাফল্যের মাপকাঠি হিসেবে দেখানো বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারণ মূল্যস্ফীতি, আবাসন ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা খরচ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে অনেক মার্কিন নাগরিক এখনো আর্থিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। অর্থাৎ যাদের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ নেই, তাদের জীবনে শেয়ার সূচকের ঊর্ধ্বগতির প্রভাবও সীমিত।

বিশ্লেষকরা আরও মনে করছেন, শেয়ারবাজার অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলেও কর্মসংস্থান, মজুরি বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, আয়-বৈষম্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মতো বিষয়গুলো অর্থনীতির প্রকৃত চিত্র প্রকাশে সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এর ফলে তারা আশঙ্কা করছেন, ট্রাম্প যদি শেয়ারবাজারের অবস্থানকে রাজনৈতিক সাফল্যের প্রধান মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার অব্যাহত রাখেন, তবে ভবিষ্যতে বাজারে বড় ধরনের পতন ঘটলে তা তাঁর প্রশাসনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নীতিতে পরিবর্তনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.