ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় বর্তমানে টালমাটাল বিশ্ব অর্থনীতি। এমন পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি
ঋণপত্র কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। তবে দেশটির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’র (এআই) কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।
জার্মানির ডয়েচে ব্যাংকের বরাতে সম্প্রতি রয়টার্সের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
ডয়েচে ব্যাংক বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে অন্যতম। ব্যাংকটির মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৭১ ট্রিলিয়ন ডলার।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আগের মতো যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণপত্র কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। একই সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ ঘটছে। এর ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বড় একটি অংশ দেশটির প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন।
ডয়চে ব্যাংকের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই প্রবণতার ফলে বিদেশি মূলধনের বড় অংশ এখন পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ হচ্ছে। তবে সরকারি ঋণপত্রের তুলনায় পুঁজিবাজার বেশি অস্থিতিশীল। এরফলে ডলারের স্থিতিশীলতা নির্ভর করছে প্রযুক্তি খাতের কোম্পানিগুলোর পারফরম্যান্সের উপর।
ব্যাংকটি আরও বলেছে, এমন পরিস্থিতির মধ্যে ভবিষ্যতে এআই-নির্ভর প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে গেলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে বেরিয়ে যেতে পারে। এর ফলে ডলারের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হবে। একইসঙ্গে বিশ্বব্যাপী আর্থিক বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা বৃদ্ধির ঝুঁকি রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের মূল্য ও অবস্থান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সুদের হার, ফেডারেল রিজার্ভের নীতিসহ বিভিন্ন মৌলিক অর্থনৈতিক সূচকের ওপর নির্ভরশীল। তবুও অর্থায়নের এই পরিবর্তিত ধারা ভবিষ্যতে ডলারের জন্য নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এমন আর্থিক অস্থিরতার মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক আলোচক অ্যারন ডেভিড মিলার রয়টার্সকে বলেন, হামলা চালিয়েও ইরানকে দমাতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র। আলোচনার টেবিলেও ওয়াশিংটনের তেমন অর্জন নেই। সামরিক বা কূটনৈতিক কোনোভাবেই ইরানের কাছ থেকে ট্রাম্প খুব বেশি কিছু অর্জন করতে পারবেন বলে মনে হচ্ছে না। তিনি নিজেই নিজেকে কঠিন অবস্থায় ফেলেছেন।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.