ইরান যুদ্ধের সময় ন্যাটো মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ায়নি: ট্রাম্প
জোট সম্মেলনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কড়া বার্তা
ন্যাটোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের বর্তমান সম্পর্ককে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘একমুখী’ দাবি করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যুদ্ধের সময় ন্যাটো মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ায়নি।
জোটের আসন্ন শীর্ষ সম্মেলনের মাত্র কয়েক দিন আগে দেওয়া এই বক্তব্য দিলেন ট্রাম্প।
শুক্রবার (৩ জুলাই) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “তারা আমাদের জন্য সেখানে ছিল না।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ন্যাটোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক পারস্পরিক নয় এবং এর বেশিরভাগ দায়ভার বহন করছে ওয়াশিংটন।
ইরানকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ইউরোপের কয়েকটি দেশ মার্কিন বাহিনীর জন্য তাদের সামরিক ঘাঁটির ব্যবহার সীমিত করায় ট্রাম্প ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তার মতে, ইউরোপকে নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আরও বেশি নিতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে।
ট্রাম্পের পোস্টে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয়ের একটি তুলনামূলক চার্টও প্রকাশ করা হয়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ বেশ কয়েকটি সদস্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি দেখানো হয়েছে।
গত বছর ট্রাম্পের চাপের মুখে ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রায় সম্মত হয়।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে ন্যাটো সদস্যদের সীমিত ভূমিকা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হতাশ। তিনি জানান, ৭-৮ জুলাই তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো সম্মেলনে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্যসূচি হবে।
রুবিওর ভাষায়, “মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের সামরিক অভিযানের বিষয়ে কিছু ন্যাটো মিত্রের প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্টের হতাশা সবারই জানা। শীর্ষ সম্মেলনে এ বিষয়টি অবশ্যই আলোচনা হবে।”
আসন্ন এই সম্মেলনে ন্যাটোর ৩২টি সদস্য রাষ্ট্রের নেতারা অংশ নেবেন। ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ন্যাটো দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভাব মোকাবিলা এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.