দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় সারা দেশে একযোগে এই পরীক্ষা শুরু হয়। এবার দেশের সাধারণ সব শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন (একই) প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সূচি অনুযায়ী, এইচএসসির লিখিত পরীক্ষা চলবে আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত এবং ১৫ আগস্টের মধ্যে শেষ হবে ব্যবহারিক পরীক্ষা।
দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথমবারের মতো সব পরীক্ষা কেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় এনে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। চলতি বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সারা দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন; যা গতবারের তুলনায় ২২ হাজার ৭৬৬ জন বেশি।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন। এছাড়া মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে মোট ২ লাখ ৮৬৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এবার সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডে ছাত্রী এবং কারিগরি ও মাদরাসা বোর্ডে ছাত্রের সংখ্যা বেশি।
প্রথম দিনে সাধারণ ও কারিগরি বোর্ডে বাংলা এবং মাদরাসা বোর্ডে কুরআন মাজিদ বিষয়ের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এই পাবলিক পরীক্ষা। এবার মোট ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৪৫টিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪০টি কেন্দ্রই রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত। পরীক্ষা সুষ্ঠু করতে প্রশ্নপত্র বিতরণ, খাতা সংরক্ষণ, ক্যালকুলেটরের ব্যবহার ও শৌচাগার তল্লাশিসহ ৩৫টি কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, এবার প্রশ্নফাঁসের কোনো সুযোগ নেই। সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তবে যদি কোনো কারণে প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা ঘটে, তাহলে সারা দেশে সেদিনের পরীক্ষা তাৎক্ষণিক স্থগিত করে পরে নতুন প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হবে।
এর আগে গতকাল বুধবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, কোনো পরীক্ষা কেন্দ্রে নকল ধরা পড়লে শুধু পরীক্ষার্থী নয়, সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম চালু হতে যাচ্ছে।
নতুন শিক্ষাক্রমের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমাদের শিক্ষাক্রমকে এমনভাবে পরিবর্তন করছি, যেখানে পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি সংস্কৃতি ও ক্রীড়াকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। আমরা সহশিক্ষা কার্যক্রমকে মূল শিক্ষায় যুক্ত করতে চাইছি।”



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.