ইউরোপের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের, কেন বিচলিত নয় কেউ?

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রভাব

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিলেও এবার তা নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজার বা ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে তেমন কোনো উদ্বেগ দেখা যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এর প্রধান কারণ হলো মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়, যা ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করে দিয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ইউরোপের কোনো দেশ যদি মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর ডিজিটাল সেবা কর আরোপ করে, তাহলে সেই দেশের যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা সব পণ্যের ওপর অবিলম্বে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তিনি আরও দাবি করেন, এ ধরনের শুল্ক বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তির ওপরও প্রাধান্য পাবে।

ডিজিটাল সেবা কর এমন একটি করব্যবস্থা, যার মাধ্যমে সরকারগুলো অনলাইনে পরিচালিত বড় কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে রাজস্ব আদায় করতে পারে, এমনকি প্রতিষ্ঠানটি কোনো দেশে শারীরিকভাবে উপস্থিত না থাকলেও বা লাভ না করলেও। যেহেতু বিশ্বের বৃহত্তম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেকগুলোই মার্কিন, তাই ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন যে এ ধরনের কর মূলত যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানায়।

তবে ট্রাম্পের নতুন হুমকিকে বাস্তবসম্মত মনে করছেন না অনেক বিশেষজ্ঞ। কারণ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে প্রেসিডেন্টের একতরফাভাবে শুল্ক আরোপের ক্ষমতার ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে।

এর আগে ট্রাম্প শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ১৯৭৪ সালের ইটারন্যাশনার ইমার্জেন্সি ইকোনোমিকস পাওয়ার আইন ব্যবহার করেছিলেন। তার প্রশাসনের দাবি ছিল, এই আইনের আওতায় জরুরি পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট দ্রুত শুল্ক আরোপ করতে পারেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, এভাবে আইনটির ব্যবহার প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে।

প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস রায়ে বলেন, ‘কংগ্রেস যখন শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয়, তখন তা স্পষ্ট এবং নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতার মধ্যেই দেয়। এ ক্ষেত্রে তা করা হয়নি।’

এদিকে, শুল্কবিষয়ক মামলার নেতৃত্বদানকারী সংস্থা লিবার্টী জাস্টিস সেন্টার -এর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেফরি শোয়াব বলেন, কংগ্রেস প্রেসিডেন্টকে যখন ইচ্ছা তখন শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয়নি। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে শুল্ক আরোপ করতে পারেন না।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্প প্রশাসন বিকল্প কৌশল হিসেবে একটি অভিন্ন ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে, যার মেয়াদ আগামী মাসে শেষ হওয়ার কথা। পাশাপাশি প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আইনের ধারা ৩০১-এর আওতায় একাধিক তদন্তও শুরু করেছে, যা ভবিষ্যতে উচ্চ শুল্ক আরোপের পথ তৈরি করতে পারে। তবে এসব তদন্ত সম্পন্ন হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেও ইউরোপীয় দেশগুলোর ডিজিটাল সেবা কর নিয়ে ধারা ৩০১-এর আওতায় তদন্ত শুরু করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেগুলো নতুন শুল্ক আরোপে গড়ায়নি; বরং আলোচনা ও দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।

ফলে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প আবারও এসব তদন্তকে চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। তবে বর্তমান আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে ইউরোপের ওপর তাৎক্ষণিক ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি বাস্তবে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

 

সূত্র: সিএনএন, সিবিএস

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.