মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে প্রায় ১১২ দিন আটকে থাকার পর অবশেষে বাংলাদেশের পথে যাত্রা করেছে ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ ‘এমটি নর্ডিক পোলাক্স’।
সৌদি আরব থেকে ছেড়ে আসা জাহাজটি হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরে অবস্থান করছে। এই ট্যাংকারটিতে ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির জন্য বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) আমদানি করা এক লাখ আট হাজার ৬২৫ টন ক্রুড রয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শরীফ হাসনাত। তিনি বলেন, জাহাজটির আগামী ৬ জুলাই বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। এটি গত ২২ জুন হরমুজ অতিক্রম করে।
এদিকে নর্ডিক পোলাক্সের পরদিন ২৩ জুন রাতে হরমুজ পাড়ি দেয় বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’। এটি হরমুজ অতিক্রম করার সঙ্গে সঙ্গেই বিএসসির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত তথ্য জানানো হলেও একদিন আগে ছেড়ে আসা নর্ডিক পোলাক্সের বিষয়ে না জানানো নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের আমদানি করা শতভাগ ক্রুড অয়েল শিপিং করপোরেশন পরিবহন করে থাকে। এক্ষেত্রে বিএসসির চার্টার্ড প্রতিষ্ঠান নর্ভিক এনার্জি নর্ডিক পোলাক্স জাহাজটি ভাড়া নেয়।
এ ব্যাপারে বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিপিসির ক্রুডবাহী জাহাজ নর্ডিক পোলাক্স ২২ জুন হরমুজ পাড়ি দিয়েছে। জাহাজটি বর্তমানে ফুজাইরা বন্দরে রয়েছে। বাঙ্কার (জাহাজের জ্বালানি) ও পানি নিয়ে জাহাজটি বাংলাদেশের উদ্দেশে আজ ছেড়ে আসার কথা রয়েছে।’
নর্ডিক পোলাক্স সৌদি আরবের রাসতানুরা বন্দর থেকে ক্রুড বোঝাই করে আসার পথে যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে নিষেধাজ্ঞা থাকায় ৩ মার্চ আটকা পড়েছিল।
ইস্টার্ন রিফাইনারি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এক লাখ দুই হাজার ২৮০ টন এরাবিয়ান লাইট ক্রুড অয়েল নিয়ে আসা জাহাজ ‘এমটি নিনেমিয়া’ কুতুবদিয়া অ্যাংকরে অবস্থান করছে। জাহাজটি থেকে ক্রুড খালাস চলমান রয়েছে। এটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে গত ১৭ জুন বাংলাদেশে আসে।
একই জাহাজ আগের পার্সেলে এক লাখ টন একই ক্রুড নিয়ে ইয়ানবু থেকে ৬ মে বাংলাদেশে আসে। চালানটি খালাসের পর সৌদি আরব গিয়ে বর্তমান চালানটি নিয়ে আসে। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে ৯৯ হাজার ৭৬৯ টন মারবান ক্রুড নিয়ে গত ২১ মে বাংলাদেশে আসে ‘এমটি ফসিল’।
বিপিসি মালিকানাধীন একমাত্র তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি। এতে পরিশোধনে ব্যবহৃত শতভাগ ক্রুড অয়েল আমদানি করতে হয়। সরকারের সঙ্গে সরকারের (জিটুজি) চুক্তির পদ্ধতিতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বাংলাদেশ এ ক্রুড আমদানি করে।
সৌদি আরব থেকে এরাবিয়ান লাইট ক্রুড এবং আরব আমিরাত থেকে মারবান লাইট ক্রুড আসে। আমদানি করা ক্রুডের শতভাগ পরিবহন করে জাতীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিএসসি। এসব ক্রুড পরিবহনের জন্য বর্তমানে আমেরিকান প্রতিষ্ঠান নর্ভিক এনার্জি থেকে জাহাজ ভাড়া নেয় বিএসসি।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.