রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের জন্য এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। একইসঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চাওয়া হয়।
রবিবার (৭ জুন) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ রিটটি দায়ের করেন।
পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত, বিচার এবং নিহত প্রতিটি শিশুর অভিভাবকের জন্য এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট করা হয়েছে। আগামীকাল (সোমবার) এ রিটের ওপর শুনানি হতে পারে।
এর আগে গত ২৭ মে ভোরে হাসপাতালটির পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা ছয় নবজাতক কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মারা যায়। ঘটনার পর স্বাস্থ্য অধিদফতর একটি উচ্চপর্যায়ের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রতিবেদনে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত অব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ও নার্সদের গাফিলতির একাধিক দিক উঠে আসে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ওয়ার্ডটি নবজাতক ও অস্ত্রোপচার-পরবর্তী রোগীদের জন্য উপযুক্ত ছিল না; পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের অভাব ছিল এবং এসি ব্যবস্থাও অপ্রতুল ও অনিয়মিতভাবে পরিচালিত হতো। ঘটনার সময় ওয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনও চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না এবং গুরুতর অবস্থার পরও সময়মতো চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়নি।
তদন্ত প্রতিবেদনে নবজাতকদের শারীরিক অবস্থা জন্মের পর সুস্থ ছিল বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি বলা হয়, প্রসব-পরবর্তী জটিলতার জন্য বিশেষ চিকিৎসা বা ইনকিউবেটরের প্রয়োজনীয়তা ছিল না। তবে হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও যথাযথ চিকিৎসা ও জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণে ঘাটতি ছিল বলে তদন্তে উঠে আসে। একইসঙ্গে হাসপাতালের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, পর্যাপ্ত তত্ত্বাবধানের অভাব এবং প্রশাসনিক ত্রুটির কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে আজীবন থাকার ঘোষণা দিয়েছে। গত ৬ জুন রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে হাসপাতালের আইনজীবী শিশির মনির জানান, নিহত নবজাতকদের পরিবারের সদস্যরা আজীবন হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাবেন। পাশাপাশি তাদের সন্তানেরা হাসপাতালের মেডিকেল কলেজে বিশেষ বৃত্তিতে পড়াশোনার সুযোগ এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ পেতে পারেন বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.