বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট হবে জনবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব ও বিনিয়োগ সহায়ক বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
শুক্রবার (২৯ মে) দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজবাড়ী পৌরসভার রজনীগন্ধা মিলনায়তনে জনপ্রতিনিধি, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. তিতুমীর বলেন, দেশে এখনও অনেক ক্ষেত্রে ‘লাল ফিতার দৌরাত্ম্য’ রয়েছে। তবে বর্তমান সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আসন্ন বাজেটে ব্যবসা, বিনিয়োগ ও নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
তিনি বলেন, অবহেলিত অঞ্চলে শিল্প উৎপাদন বাড়াতে বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা ও সহায়তা দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বন্ধ শিল্প-কারখানার জন্য স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধাও দেওয়া হবে।
নারী উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প এবং পিছিয়ে থাকা অঞ্চলের উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখার কথাও জানান অর্থ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে রাজবাড়ীতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
বাংলাদেশ অক্সিজেন কোম্পানির জন্য নির্ধারিত জায়গাকে শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, সরকার সম্মিলিতভাবে শিল্পায়নের উদ্যোগ এগিয়ে নিতে চায়।
ড. তিতুমীর বলেন, রাজবাড়ীতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বেকারত্ব কমানো এখন জরুরি। বিশেষ করে যুব বেকারত্ব দূর করতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং উৎপাদনমুখী শিল্প গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জেলার বিসিক শিল্পনগরীর অনেক প্লট অব্যবহৃত পড়ে আছে। শিল্প-কারখানা চালু হলে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চান। স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সরকার কাজ করছে।
শিক্ষা ব্যবস্থায়ও আমূল সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু শিক্ষার মান উন্নয়ন নয়, এমন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যা কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে।
জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ এবং সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ।
সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.