শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তির ওপর ভর করে ২০২৫ সালে এবং ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে লক্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে ব্র্যাক ব্যাংক।
ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো, বিশেষ করে বিকাশ লিমিটেড, বছরজুড়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা ব্র্যাক ব্যাংক ইকোসিস্টেমের শক্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতিফলন।
সোমবার (২৫ মে) ব্যাংকটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গ্রাহকদের অবিচল আস্থা, শক্তিশালী সুশাসন, গ্রাহককেন্দ্রিক প্রোডাক্ট উদ্ভাবন, বিস্তৃত ডিজিটাল সক্ষমতা এবং সম্প্রসারিত ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এই ধারাবাহিক সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি। মূল্যবোধভিত্তিক ব্যাংকিং মডেলের মাধ্যমে ব্র্যাক ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে স্টেকহোল্ডারদের আস্থা আরও সুদৃঢ় করছে এবং দেশের অন্যতম বিশ্বস্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করছে।
২১ মে ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত এক আর্নিংস ডিসক্লোজার অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ব্যাংকের ২০২৫ সাল ও ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফল এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত এ অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বিশ্লেষক, পোর্টফোলিও ম্যানেজার ও পুঁজিবাজার–সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান এবং ব্যাংকটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ব্যাংকের আর্থিক ফলাফল, ব্যবসায়িক অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে একটি প্রশ্নোত্তর পর্বও অনুষ্ঠিত হয়।
২০২৫ সালে ব্র্যাক ব্যাংকের উল্লেখযোগ্য অর্জনসমূহ:
• ২০২৫ সালে সমন্বিত নিট মুনাফা ৫৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৫১ কোটি টাকায়, যা ২০২৪ সালে ছিল ১ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে শুধু ব্র্যাক ব্যাংকের একক (স্ট্যান্ডঅ্যালন) নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৮১ কোটি টাকায়, যা আগের বছরের ১ হাজার ২১৪ কোটি টাকা থেকে ৩০ শতাংশ বেশি।
• সমন্বিত রিটার্ন অন ইক্যুইটি (আরওই) ২০ দশমিক ০৬ শতাংশ এবং রিটার্ন অন অ্যাসেটস (আরওএ) ১ দশমিক ৫২ শতাংশ।
• সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ১২ টাকা, যা ২০২৪ সালে ছিল ৬ দশমিক ১৮ টাকা।
• সমন্বিত নিট অ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি) শেয়ারপ্রতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ দশমিক ৫৬ টাকা, যা আগের বছর ছিল ৩৯ দশমিক ৩৮ টাকা।
• সমন্বিত ভিত্তিতে শেয়ারপ্রতি নিট ক্যাশ ফ্লো (এনওসিএফপিএস) বেড়ে হয়েছে ৭২ দশমিক ৭২ টাকা, যা ২০২৪ সালে ছিল ৫৪ দশমিক ১৪ টাকা।
• ব্যাংকের লোন পোর্টফোলিও ১৭ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে পুরো ব্যাংকিং খাতের গড় প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ৬ শতাংশ।
• মোট আমানত বেড়েছে ২৯ শতাংশ, যেখানে এই খাতের গড় প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ১২ শতাংশ।
• ঋণ প্রবৃদ্ধি, দক্ষ তহবিল ব্যবস্থাপনা ও নন-ফান্ডেড আয়ের কারণে সমন্বিত মোট আয় বেড়েছে ৩৩ শতাংশ।
• প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও মানবসম্পদে বিনিয়োগ বৃদ্ধির কারণে পরিচালন ব্যয় বেড়েছে ২২ শতাংশ।
• খেলাপি ঋণের হার (এনপিএল) কমে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ২৭ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে ছিল ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ।
২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে উল্লেখযোগ্য অর্জনসমূহ:
• ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে সমন্বিত নিট মুনাফা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৬৯৬ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৩ শতাংশ বেশি।
• সমন্বিত রিটার্ন অন ইক্যুইটি (আরওই) হয়েছে ২১ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং রিটার্ন অন অ্যাসেটস (আরওএ) ১ দশমিক ৭০ শতাংশ।
• সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়ে হয়েছে ২ দশমিক ৯০ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ দশমিক ০২ টাকা।
• ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সমন্বিতভাবে শেয়ারপ্রতি নিট অ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬ দশমিক ১২ টাকা, যা ডিসেম্বর ২০২৫-এ ছিল ৫১ দশমিক ৫৬ টাকা।
• ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় প্রথম প্রান্তিকে ব্যাংকের মোট আমানত বেড়েছে ৩ শতাংশ। এটি ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি কৌশল এবং গ্রাহকদের আস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যতার প্রতিফলন।
• বিনিয়োগ আয়, নন-ফান্ডেড আয় ও সুদ আয়ের প্রবৃদ্ধির ফলে সমন্বিত মোট আয় বেড়েছে ২৭ শতাংশ।
• খেলাপি ঋণের হার সামান্য বেড়ে হয়েছে ২ দশমিক ২৯ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ছিল ২ দশমিক ২৭ শতাংশ।
ব্র্যাক ব্যাংকের এমন শক্তিশালী আর্থিক পারফরম্যান্স নিয়ে ব্যাংকটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, “২০২৫ সালে ব্র্যাক ব্যাংক রেকর্ড আর্থিক সাফল্য অর্জন করেছে। এই ধারাবাহিকতা ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকেও বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছি আমরা। এটি আমাদের প্রতি গ্রাহক ও স্টেকহোল্ডারদের আস্থার প্রতিফলন। সুশাসন, গ্রাহককেন্দ্রিক প্রোডাক্ট, ডিজিটাল সক্ষমতা এবং বিস্তৃত সার্ভিস নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আমরা দেশের আরও বেশি মানুষকে ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় আনতে পেরেছি।”
তিনি আরও বলেন, “বছরের পর বছর ধরে ব্র্যাক ব্যাংক সুশাসন, কমপ্লায়েন্স ও টেকসই ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে নতুন মানদণ্ড প্রতিষ্ঠিত করেছে। পরিচালনা পর্ষদের কৌশলগত দিকনির্দেশনা, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সহায়তা এবং সর্বোপরি গ্রাহকদের আস্থার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।”
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.