আগের মতো দেশ পরিচালনা করলে চলবে না বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, অর্থায়নের কাঠামো বদলে গেছে এবং বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক নীতিতে নতুন চিন্তা প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে প্রথম আলো আয়োজিত ‘সংকটকালের বাজেট ও জনপ্রত্যাশা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনার স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘১ থেকে ২ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়ার জন্য কি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পেছনে দৌড়াব? নাকি কাল সকালে একটা তহবিল গঠন করে নিজের দেশের বাজারে ঢোকাব? বিনিয়োগের বিপরীতে ভালো মুনাফা পেলে কেন আমি অপেক্ষা করব যে কে, কবে আমারে টাকা দেবে, কী শর্তে দেবে?’
তিনি আরও বলেন, ‘অলিগার্ক অর্থনীতি থেকে সরে আসতে চাই। প্রত্যেক নাগরিকের যাতে সুযোগের সমান অধিকার থাকে অর্থাৎ অংশগ্রহণমূলক থাকে, অর্থনীতির সুফল যেন সবার কাছে যায়। অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ হচ্ছে আমাদের দর্শন।’
গোলটেবিল আলোচনায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের প্রফেসোরিয়াল ফেলো সেলিম জাহান, ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান, এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব উর রহমান, পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ, টিকে গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তফা হায়দার, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সৃজনশীল অর্থনীতির একটি বড় অংশ করের আওতার বাইরে রয়ে গেছে। তিনি জানান, কামার, কুমার, তাঁতি ও প্রান্তিক পেশাজীবীদের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং তাঁদের জন্য বাজেটে আলাদা তহবিল থাকবে।
তিনি সাংস্কৃতিক খাতের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, থিয়েটার ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন, যা দেশের সফট পাওয়ার বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।
অর্থমন্ত্রী ব্যাংকিং খাত ও বিনিয়োগ কাঠামোর দুর্বলতার কথাও তুলে ধরে বলেন, বড় প্রকল্পের অর্থায়নে ব্যাংকের পরিবর্তে পুঁজিবাজার ও বন্ড মার্কেটকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে। তাঁর মতে, এতে ব্যবসার খরচ কমবে এবং অর্থনৈতিক কার্যকারিতা বাড়বে।
তিনি আরও বলেন, করনীতি সংস্কারের কাজ চলছে এবং নতুনভাবে এমন করনীতি প্রণয়ন করা হবে যাতে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর দিতে আগ্রহী হয়।
গোলটেবিল আলোচনায় অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে এবং বাজেটের মাধ্যমে কল্যাণমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলাই লক্ষ্য।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.