বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির গণশুনানিতে মূলত নিম্নবিত্ত মানুষের পকেট কাটার প্রস্তাব তোলা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বিদ্যুতের পাইকারি, সঞ্চালন এবং খুচরা মূল্যহার পরিবর্তনের প্রস্তাবের বিষয়ে আয়োজিত গণশুনানিতে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ০-৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের ব্যবহারকারী সবাই একই বিল দেবে, এই প্রস্তাব যখন এলোই, তখন আমি জিজ্ঞেস করতে চাই, ০-৫০ ইউনিট থেকে কত পরিমাণ গ্রাহক ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত উন্নীত হয়েছে? এর মাধ্যমে আমরা একটা সূচক পাব যে, মানুষের আয় বেড়েছে কিনা। আজকে এখানে মূলত নিম্নবিত্ত মানুষের পকেট কাটার প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়েছে।
সিস্টেম লসের বিষয়ে তিনি বলেন, গতকাল বলা হয়েছিল, আন্তর্জাতিকভাবে নাকি ২ শতাংশ সিস্টেম লস স্বাভাবিক। তাহলে সে পরিমাণ এখনও ৮ শতাংশে কেন পড়ে আছে? পিডিবিকে আমরা অথরিটি দিতে চাই, আমদানিনির্ভরতা বাড়িয়ে কোম্পানিভিত্তিক যে সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে, তা যেন কমিয়ে আনা হয়। একেবারে সম্ভব না, কিন্তু ধীরে ধীরে সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তারা বললেন শহর আর গ্রাম নাকি এক হয়ে গেছে। তাহলে তো পল্লীবিদ্যুতকে উঠিয়ে দেওয়া উচিত। গ্রামে এখনো যারা থাকে, তারা চেষ্টা করে সাশ্রয়ী হওয়ার, যাতে মাসশেষে বিল কম আসে। শহরে তো এখন বেশিরভাগ প্রিপেইড, পাঞ্চ করে বিদ্যুৎ চালায়।
এর আগে সকাল ১০টা থেকে শুরু হয় গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়াতে গণশুনানি। দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির দেওয়া দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর এই শুনানি করছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
চলতি মাসের শুরুতে প্রথমে পিডিবির পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। এরপর একে একে বিতরণ কোম্পানিগুলোও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম পাইকারি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির উপর আনুপাতিক হারে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়।
প্রস্তাবে বিতরণ কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে তাদের পরিচালন ব্যয় রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। এই বিশাল ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে গ্রাহক পর্যায়ে দাম বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই।
এর আগে গতকাল (বুধবার) পিডিবির প্রস্তাবিত পাইকারি বিদ্যুতের দাম নিয়ে গণশুনানি করেছে কমিশন।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.