দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা, দখল এবং ভরাটের কারণে দেশের অসংখ্য খাল নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে। ফলে জলাবদ্ধতা, বন্যা এবং পানি নিষ্কাশন সংকট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। এ অবস্থায় সরকারি খাল পুনঃখননে ব্যক্তি উদ্যোগকে সম্পৃক্ত করতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার।
সম্প্রতি ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।
এতে বলা হয়েছে, খেয়াঘাট বা ব্যক্তি উদ্যোগে সরকারি খাল খননের মাধ্যমে খননকৃত মাটি ও বালি অপসারণের সুযোগ দেওয়া হবে। এতে একদিকে খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে, অন্যদিকে স্থানীয় উন্নয়ন কাজেও মাটি ও বালির চাহিদা পূরণ হবে। খননকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান খননকৃত মাটি নিজ প্রয়োজনে ব্যবহার বা বিক্রি করতে পারবে।
পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, দেশের খাল খনন সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচির অংশ। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ খাল খনন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কিন্তু এখনও অনেক ছোট ও মাঝারি খাল পুনঃখননের বাইরে রয়ে গেছে। সড়ক নির্মাণ, স্কুল-কলেজ স্থাপন, মাঠ ভরাট, বসতভিটা উন্নয়ন ও ইটভাটাসহ বিভিন্ন কাজে বিপুল পরিমাণ মাটি ও বালির প্রয়োজন হয় উল্লেখ করে পরিপত্রে জানানো হয়, এই চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সরকারি খাল খননে সম্পৃক্ত করা হবে| তবে পুরো কার্যক্রম কঠোর প্রশাসনিক তদারকির আওতায় পরিচালিত হবে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিজ ব্যয়ে খাল খনন ও খননকৃত মাটি-বালি অপসারণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে আবেদন করতে পারবে। আবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট খাল সরেজমিনে পরিদর্শন করে কতটুকু খনন প্রয়োজন, সে বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার মতামতের ভিত্তিতে একটি প্রাক্কলন প্রস্তুত করা হবে। প্রাক্কলনে খালের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, গভীরতা এবং কত পরিমাণ মাটি বা বালি উত্তোলন করা যাবে তা উল্লেখ থাকবে।
একই খালের জন্য একাধিক আবেদন জমা পড়লে আলোচনা বা লটারির মাধ্যমে খননকারী নির্বাচন করা হবে। বড় খালের ক্ষেত্রে খণ্ডে ভাগ করে একাধিক আবেদনকারীকে দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, অনুমোদিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খনন কাজ সম্পন্ন করতে হবে এবং খননকৃত মাটি, বালি, আগাছা ও অন্যান্য বর্জ্য খালের অন্তত ১০ মিটার দূরে সরিয়ে ফেলতে হবে। কাজ শেষে উপজেলা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রত্যয়নপত্র নিতে হবে।
এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, অনুমোদিত নকশা বা প্রাক্কলনের বাইরে অতিরিক্ত খনন করা যাবে না। যদি অতিরিক্ত খননের কারণে পার্শ্ববর্তী জমি, স্থাপনা বা সম্পদের ক্ষতি হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এ ধরনের বিরোধ দেখা দিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি নিষ্পত্তি করবেন এবং তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, খননকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান খননকৃত মাটি নিজ প্রয়োজনে ব্যবহার বা বিক্রি করতে পারবে। এ জন্য সরকার, উপজেলা পরিষদ বা অন্য কোনো সংস্থাকে কোনো প্রকার ফি বা মূল্য পরিশোধ করতে হবে না। তবে পুরো কার্যক্রম স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারির মধ্যে থাকবে। এ বিষয়ে উপজেলা কানুনগো, সার্ভেয়ার এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন অনুযায়ী খনন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না তারা সেটি নিশ্চিত করবেন। পাশাপাশি সরকারি কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় থাকা খালে ব্যক্তি উদ্যোগে খননের অনুমতি দেওয়া হবে না বলেও পরিপত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে। জনস্বার্থে জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। বাসস



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.