সরকারের রাজস্ব আহরণ এবং বার্ষিক উন্নয়ন বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন অযোগ্য: দেবপ্রিয়

আগামী বাজেট বাস্তবসম্মত হতে যাচ্ছে, নাকি অলৌকিক প্রক্কলন হচ্ছে- এমন প্রশ্ন তুলেছেন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ-এর সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, সরকারের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা এবং বার্ষিক উন্নয়ন বাজেটে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে, সেটি বাস্তবায়ন অযোগ্য। পাশাপাশি এটি পুরোনো সংস্কৃতির ধারায় নির্ধারণ করা হচ্ছে বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।

সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ : রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক সংলাপে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এমন অভিমত ব্যক্ত করেন। এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ যৌথভাবে এই সংলাপের আয়োজন করে।

সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে সংসদ সদস্য মো. সাইফুল আলম খান মিলন ও মাহ্‌মুদা হাবীবা উপস্থিত ছিলেন।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশ এই মুহূর্তে অর্থনৈতিক বিভিন্ন চাপের মধ্যে রয়েছে। বর্তমান সরকারেরও বয়স এখন পর্যন্ত তিন-চার মাস চলছে। এই সরকার অর্থনীতিকে কতটা দুর্বল অবস্থায় পেয়েছে, সেটি এখনো তারা স্পষ্ট করতে পারেনি। তারাও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মতো একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে পারতেন, কিন্তু সেটি তারা করেননি।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ফ্যামিলি কার্ড, খাল খননের মতো বিষয়গুলো নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করলেও অর্থনীতি কীভাবে স্থিতিশীল হবে সেটা নিয়ে আলোচনা খুবই সামান্য। মূল্যস্ফীতিকে কীভাবে সামাল দেবেন, কর্মসংস্থান কীভাবে বাড়ানো যাবে এই বিষয়গুলোতে তারা যথাযথভাবে ফোকাস করছেন না।

সিপিডির এই ফেলো বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বার্ষিক উন্নয়ন বাজেট ৪০-৪৫ শতাংশ পর্যন্ত অবাস্তবায়িত থেকে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আগামী অর্থবছরের জন্য ২০-২৫ শতাংশ উন্নয়ন বাজেট বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যা পুরোনো সংস্কৃতির ধারায় চলছে। এটি অর্থনীতিকে আরো চাপের মুখে ফেলে দিতে পারে।

তিনি আরো বলেন, একইভাবে রাজস্ব আহরণের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে এটিও অবাস্তব। নতুন একটি সরকার দায়িত্বে এসেই রাজস্ব আহরণের টার্গেট এক থেকে দেড় লাখ কোটি বাড়িয়ে দেওয়াটা পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না। এটি রাজস্ব বোর্ডের পক্ষে আদায় করাও সম্ভব হবে না। এমনিতেই বিগত বছরগুলোতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আদায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে। তার উপরে এই বাড়তি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলে সেটি আদায় সম্ভব হবে কিনা এটি নিয়ে বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

সংলাপে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান-এর মহাপরিচালক অধ্যাপক এ কে এনামুল হক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এর অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শরমিন্দ নীলোর্মি, নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক প্রমুখ। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.