ভারতীয় শেয়ার বাজারে ধস, রুপির রেকর্ড পতন

ভারতের শেয়ার বাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে আজ। যেখানে মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপির মান শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে ইতিহাসের সর্বনিম্ন ৯৫.৩১ রুপিতে দাঁড়িয়েছে। একদিনের ব্যবধানে এটি গত ২৭ মার্চের পর সবচেয়ে বড় দরপতন। খবর রয়টার্সের

দেশটির শেয়ার বাজারের প্রধান সূচক নিফটি-৫০ ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ কমে ২৩ হাজার ৮১৫ দশমিক ৮৫ পয়েন্টে এবং বিএসই সেনসেক্স ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ৭৬ হাজার ১৫ দশমিক ২৮ পয়েন্টে নেমে এসেছে। বাজারের প্রধান ১৬টি খাতের মধ্যে ১৩টিই লোকসানের মুখে পড়েছে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উভয় ধরনের শেয়ারের দাম গড়ে প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ করে কমেছে।

বাজারের এই অস্থিরতার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মিতব্যয়িতার আহ্বানকে। তিনি জ্বালানি সাশ্রয়, আমদানি হ্রাস ও স্বর্ণ কেনার বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক হতে বললে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের শান্তি প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৪ ডলারে পৌঁছেছে। ভারত সরকার পেট্রোল-ডিজেলের দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্তে অনড় থাকলেও বিশ্ববাজারে তেলের এই উচ্চমূল্য তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলোর মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যা সামগ্রিক বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে।

প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণ কেনায় নিরুৎসাহিত করার আহ্বানে গহনা শিল্পের শেয়ারে বড় পতন হয়েছে, যেখানে টাইটান ও কল্যাণ জুয়েলার্সের মতো প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ৬ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। তেলের দাম বাড়ায় পরিবহণ ও পর্যটন খাতও বড় লোকসানের মুখে পড়েছে, যার ফলে বিমান সংস্থা ইন্ডিগোর শেয়ার ৪ দশমিক ৯ শতাংশ এবং বিভিন্ন হোটেলের শেয়ার দর উল্লেখ্যযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতেও মন্দা দেখা দিয়েছে; রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর সূচক ২ দশমিক ৫ শতাংশ নিচে নেমে গেছে ও স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার শেয়ার দর কমেছে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ।

তবে এই মন্দার মধ্যেও কৃষি রাসায়নিক সংস্থা ইউপিএল ও গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হুন্দাই মোটর ইন্ডিয়ার শেয়ারের দাম কিছুটা বেড়েছে। মূলত আন্তর্জাতিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ সাশ্রয়ী নীতির ফলে ভারতের বাজারে এই অস্থিরতা আরও কিছুদিন চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.