জ্বালানি সাশ্রয় ও শিক্ষা খাতের উন্নয়ন পাশাপাশি ইলেক্ট্রিক যানবাহন (ইভি) ব্যবহারে উৎসাহিত করতে স্কুলের জন্য ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক বাস আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক ও কর প্রত্যাহার করেছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
এনবিআর জানিয়েছে, এস.আর.ও. নং ৮৪/আইন/২০২৬/০২/কাস্টমস (২৭ এপ্রিল ২০২৬) অনুযায়ী স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ যেকোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি (CD), রেগুলেটরি ডিউটি (RD), মূল্য সংযোজন কর (VAT), সম্পূরক শুল্ক (SD), আগাম কর (AT) এবং অগ্রিম আয়কর (AIT)— সবকিছুই মওকুফ থাকবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিজে কিংবা তাদের পক্ষে অন্য কোনো সংস্থা শিক্ষার্থী পরিবহনের জন্য এসব বাস আমদানি করলে একই সুবিধা পাবে। তবে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মানতে হবে— বাসের রঙ হবে হলুদ এবং গায়ে ‘School/College/Student Bus/Transport’ লেখা স্পষ্টভাবে থাকতে হবে।
এ ধরনের বাস আমদানির জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে এনবিআরে আবেদন করতে হবে এবং কর্তৃপক্ষ ১০ কার্যদিবসের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তি করবে বলে জানানো হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো তুলনামূলক কম খরচে পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারবে। একসঙ্গে বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী নিরাপদ ও আরামদায়কভাবে যাতায়াত করতে পারবে, যা নগরীর যানজট কমাতে এবং জ্বালানি সাশ্রয়ে ভূমিকা রাখবে। একইসঙ্গে অভিভাবকদের পরিবহন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া, সাধারণ যাত্রী পরিবহনের জন্য ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে শুল্ক-কর কমানোর বিষয়টিও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমে গণপরিবহনে আগ্রহ বাড়বে, ফলে জ্বালানি সাশ্রয় ও যাতায়াত ব্যয় কমানো সম্ভব হবে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.