বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংক যমুনা ব্যাংক পিএলসি, বেল্ট অ্যান্ড রোড হেলথ কেয়ার সেন্টার (বিআরএইচসি) এবং শেনজেন হেংশেং হাসপাতাল ও গুয়াংজু ফোসান চ্যানচেং হাসপাতালসহ চীনের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তি বাংলাদেশি রোগীদের জন্য বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গত ২২ এপ্রিল রাজধানীর গুলশান-১-এ যমুনা ব্যাংক পিএলসি’র প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। এতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ব্যাংকটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
তিনটি প্রতিষ্ঠানের মনোনীত প্রতিনিধিগণ নিম্নোক্তভাবে এই সমঝোতা স্মারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেন:
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান ও স্বাক্ষরকারীগণ-
উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম — যমুনা ব্যাংক পিএলসি
উপ-ব্যবস্থাপক আবিদুর রহমান — অপারেশনস বিভাগ, বিআরএইচসি
ব্যবস্থাপক লিউ ওয়েনজুয়ান — আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিভাগ, গুয়াংজু ফোসান চ্যানচেং হাসপাতাল
এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ঝাং ফান — শেনজেন হেংশেং হাসপাতাল
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শেনজেন হেংশেং হাসপাতালের মার্কেটিং ম্যানেজার গুও চেং ঝুও এবং ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল সেন্টারের পরিচালক উ পেং; বিআরএইচসি থেকে প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল হকসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এই কৌশলগত সহযোগিতার আওতায় তিনটি প্রতিষ্ঠান রোগী রেফারেল, চিকিৎসা সমন্বয় এবং চীনে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির জন্য একটি সমন্বিত ও পেশাদার কাঠামো গড়ে তুলেছে। বিআরএইচসি প্রধান মেডিকেল ফ্যাসিলিটেটর হিসেবে রোগীর সমন্বয়, হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সামগ্রিক সেবা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করবে। এই চুক্তির একটি বিশেষ ও আকর্ষণীয় দিক হলো যমুনা ব্যাংক পিএলসি’র সকল কার্ডধারী গ্রাহকদের জন্য একটি বিশেষ ছাড়ের সুবিধা। চীনে চিকিৎসার মোট ব্যয় ২০ হাজার আরএমবি অতিক্রম করলে, নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে, গ্রাহকরা মোট চিকিৎসা খরচের ওপর সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।
যমুনা ব্যাংক পিএলসির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন “আমরা সবসময় আমাদের গ্রাহকদের জন্য উন্নত সেবা ও বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট। বিআরএইচসি এবং চীনের শীর্ষস্থানীয় হাসপাতালগুলোর সঙ্গে এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তির ফলে আমাদের কার্ডধারী গ্রাহকরা বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণের ক্ষেত্রে আকর্ষণীয় ও কার্যকর সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা এখন আমাদের গ্রাহকদের নাগালের মধ্যে আনা আমাদের লক্ষ্য।”
বিআরএইচসির নির্বাহী পরিচালক (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক) প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল হক “বিদেশে—বিশেষত চীনে—উন্নত চিকিৎসা গ্রহণে আগ্রহী বাংলাদেশি রোগীদের চাহিদা পূরণে বিআরএইচসি দীর্ঘদিন ধরে একটি বিশ্বস্ত মেডিকেল ট্যুরিজম ফ্যাসিলিটেটর হিসেবে কাজ করে আসছে। এই চুক্তির ফলে আমরা রোগীদের জন্য বিশেষজ্ঞ পরামর্শ, হাসপাতালের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্ধারণ এবং মেডিকেল ভিসা সহায়তাসহ আরও ব্যাপক সেবা নিশ্চিত করতে সক্ষম হব। আমরা আশাবাদী, এই উদ্যোগ মেডিকেল ট্যুরিজম খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।”
বিআরএইচসির উপ-ব্যবস্থাপক (অপারেশনস) আবিদুর রহমান “চীনে চিকিৎসা নিতে আগ্রহী বাংলাদেশি রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। তবে সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে অনেকেই জটিলতার সম্মুখীন হন। বিআরএইচসি সমন্বিত ও পেশাদার সেবার মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াকে সহজ ও স্বচ্ছ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই চুক্তির ফলে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে উন্নত ও মানসম্পন্ন চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।”
এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় ১২টি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত চীনা হাসপাতাল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেগুলো অনকোলজি, চক্ষু, অস্থি, শিশুরোগ, ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসা এবং অন্যান্য বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে থাকে।
এই ঐতিহাসিক ত্রিপক্ষীয় অংশীদারিত্ব মেডিকেল ট্যুরিজম খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে এবং বাংলাদেশি রোগীদের জন্য চীনে আধুনিক ও বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির সুযোগ আরও সম্প্রসারিত করবে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.