দীর্ঘ ১০ বছর পর সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় প্রথম কোনো অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তির নাম হাফিজুর রহমান। তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসের সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান। তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার বিকেলে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হক এ আদেশ দেন।
এর আগে, হাফিজুর রহমানকে বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করেন পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম। পরে তাকে কুমিল্লা সদর আদালতে হাজির করা হয়।
গত ৬ এপ্রিল এই আলোচিত মামলার সপ্তম তদন্ত কর্মকর্তা তিন সন্দেহভাজন- সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচ করার জন্য আদালতের অনুমতি চেয়েছিলেন। আদালত এতে সম্মতি দিয়েছেন। ২০১৭ সালে সিআইডি তনুর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিন জন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত মামলার ৮০টি ধার্য তারিখ পার হয়েছে এবং ৪টি সংস্থার ৭ তদন্ত কর্মকর্তা মামলাটি পরিচালনা করেছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সন্দেহভাজন তিন আসামি বর্তমানে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে আছেন। তবে তনু হত্যার পর কখন তারা অবসরে গেছেন বা তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে কিনা, সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর নিজ বাসায় ফেরেননি তনু। পরে বহু খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউজের অদূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে তার মরদেহ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। শুরুতে থানা পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনও রহস্য বের করতে পারেনি। সর্বশেষ পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দফতরে হস্তান্তর করে সিআইডি। গত প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআই সদর দফতরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির সপ্তম তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.