ছয় লিজিং কোম্পানির আমানত ফেরতের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

ছয়টি লিজিং কোম্পানির আমানতকারীরা তাঁদের আমানতের অর্থ ফেরত চান। তাঁরা আগামী তিন বছরের মধ্যে নিজেদের আমানতের অর্থ ফেরত পেতে একটি সুস্পষ্ট পথনকশা চান। এ ছাড়া এই ছয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের পদক্ষেপ চান ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা। ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের দাবি, এই ছয় এনবিএফআই প্রতিষ্ঠানে সব মিলিয়ে দুই হাজারের বেশি আমানতকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যালায়েন্স অব সিক্স এনবিএফআইস ডিপোজিটরস রিকভারি কমিটির ব্যানারে এই দাবি তুলে ধরেন ভুক্তভোগী আমানতকারীরা। ওই ছয়টি প্রতিষ্ঠান হলো ফার্স্ট ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং।

আজ দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। এ সময় ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী নাশিদ কামালসহ ভুক্তভোগী মুনিরা খান, শায়লা বানু, আক্তারি বেগম, জালাল উদ্দিনসহ অন্য ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।

দেশে গত জানুয়ারি মাসে ৯টি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা অবসায়নের উদ্যোগ নিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে পরে এই তালিকা থেকে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ফার্স্ট ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিশিষ্ট নজরুলসংগীতশিল্পী নাশিদ কামাল। তিনি বলেন, সাত বছর ধরে বিভিন্ন এনবিএফআইয়ের আমানতকারীরা অব্যবস্থাপনা, দুর্বল সুশাসন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বল পদক্ষেপের কারণে আর্থিক দুর্ভোগের শিকার হয়ে আসছেন। ব্যাংকিং খাতে বিভিন্ন সংস্কার, আমানত সুরক্ষা ও পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা চালু হলেও এনবিএফআই খাতে কোনো ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

এ সময় বিশিষ্ট নজরুলসংগীতশিল্পী নাশিদ কামাল ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো সমস্যাগ্রস্ত এনবিএফআইগুলোর ক্ষেত্রে অবিলম্বে পুনরুদ্ধার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে। এনবিএফআই খাতে আমানতকারীদের সুরক্ষায় ব্যাংক খাতের মতো সমমানের নিয়ন্ত্রক কাঠামো নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানের লিকুইডেশন ও অর্থ পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়ায় পূর্ণ স্বচ্ছতার মধ্য দিয়ে করতে হবে। এ ছাড়া অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে আর্থিক খাতে আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠাসহ ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

ভুক্তভোগী মুনিরা খান বলেন, ২০২০ সাল থেকে তিনি ও তাঁর ছেলে পিপলস লিজিংয়ে আমানত রাখলেও এখন পর্যন্ত সেই টাকা ফেরত পাননি। তিনি বলেন, প্রায় দুই হাজার পরিবারের আমানত এসব প্রতিষ্ঠানে আটকে আছে। দেশের আইনের ওপর ভরসা করে আমরা নিজেদের অর্থ জমা রেখেছিলাম।

ভুক্তভোগী মুনিরা আরও বলেন, তাঁর এক বোন দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত। নিজের ফ্ল্যাট বিক্রি করে চিকিৎসা চালালেও নতুন করে আবারও ক্যানসার ধরা পড়ায় এখন অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। অথচ এনবিএফআইয়ে তাঁর নিজস্ব আমানত রয়েছে। নিজের কষ্টের টাকা ফেরত পেতে তাঁকে ভিক্ষুকের মতো ঘুরতে হচ্ছে। এ রকম হাজারো পরিবার তাদের সঞ্চয়ের ওপর নির্ভর করে চিকিৎসা, শিক্ষা ও দৈনন্দিন খরচ চালায়। অনেকের বয়স্ক বাবা–মায়ের চিকিৎসাসহ সন্তানদের পড়াশোনাও এই টাকার ওপর নির্ভরশীল ছিল।

ভুক্তভোগী আক্তারি বেগম বলেন, তাঁর স্বামী লাভের আশায় প্রায় নিজের পেনশনের প্রায় ১৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু সেই টাকা ফেরত না পাওয়ায় প্রয়োজনমতো চিকিৎসাও করতে পারেননি তিনি। ঋণ নিয়ে বোঝা করবেন না বলে ঠিকভাবে চিকিৎসাও করেননি। গত পাঁচ মাস আগে তিনি মারা যান। এখন সন্তানদের নিয়ে কীভাবে চলবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.