নীতিগত সুদেরহার ১০ শতাংশ, ঋণের ওপর প্রায় ১৬-১৭ শতাংশে পৌঁছেছে: ডিসিসিআই সভাপতি

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) সভাপতি জনাব তাসকীন আহমেদ জানিয়েছেন, বর্তমানে নীতিগত সুদের হার ১০ শতাংশ। এর ফলে ঋণের ওপর সুদহার প্রায় ১৬-১৭ শতাংশে পৌঁছেছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর জনাব মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে জনাব তাসকীন আহমেদ এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, বর্তমান অবস্থা ব্যাংকিং ব্যবস্থায় তারল্য সংকটের প্রতিফলন। এর কারণে ব্যাংক থেকে অর্থায়ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্রমেই ব্যয়বহুল ও অনেক ক্ষেত্রে অকার্যকর হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং স্বল্প মুনাফাভিত্তিক উৎপাদনশীল শিল্পের জন্য এটি মোটেও আশাব্যঞ্জক নয়।

জনাব তাসকীন আহমেদ প্রস্তাব করেন, নীতিগত সুদের হার ক্রমান্বয়ে কমানো এবং উৎপাদনশীল খাত, রপ্তানিমুখী শিল্প ও এসএমই খাতের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকিযুক্ত ঋণসুবিধা চালু করা হোক। এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, ঋণ গ্রহণ ও ঋণ প্রদানের সুদের হারের মধ্যে ৫ শতাংশের বেশি স্প্রেড রেট বিদ্যমান, যা ব্যাংকিং খাতে স্থানীয় বিনিয়োগকারীর আস্থা কমিয়ে দিয়েছে এবং বেসরকারি বিনিয়োগে নিম্নমুখী প্রবণতা সৃষ্টি করেছে।

জনাব তাসকীন আহমেদ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঋণ শ্রেণিকরণ নীতিমালা ৯ মাস থেকে ৩ মাসে নামিয়ে আনা, ব্যবসা পরিচালনায় উচ্চ ব্যয়, জ্বালানি সংকট এবং কম চাহিদার মতো সমস্যায় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে। তিনি প্রস্তাব করেন, প্রকৃত খেলাপিদের জন্য ঋণ পুনঃতফসিল সুবিধা পুনর্বিবেচনা করা হোক এবং ঋণ শ্রেণিকরণের সময়সীমা কমপক্ষে ৬ মাস পর্যন্ত বাড়ানো হোক।

বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর জনাব মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতি বেশকয়েকটি নির্দিষ্ট পণ্য, সেবা ও রপ্তানি বাজারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা উত্তরণে আভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণই একমাত্র বিকল্প। বিশেষ করে সিএসএমই খাত ও কৃষি ব্যবস্থাপনায় অধিক গুরুত্বারোপ করতে হবে, যার মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আসবে ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে।

গভর্নর আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘসময় ধরে বজায় থাকা উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে লজিস্টিক ও পণ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যয়ের উচ্চ হার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই প্রতিবন্ধকতা নিরসনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এছাড়া জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার আশাব্যঞ্জক না হওয়ায় বৈদেশিক বিনিয়োগ ও স্থানীয় বিনিয়োগ সম্প্রসারণ পিছিয়ে আছে। এ অবস্থা উত্তরণের জন্য ব্যবসা-বাণিজ্য নীতিমালার সংস্কার ও ব্যবসা পরিচালন ব্যয় হ্রাস অপরিহার্য।

ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি জনাব রাজিব এইচ চৌধুরী, সহ-সভাপতি জনাব মো. সালিম সোলায়মান, পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.