ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা

গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধরত ইরানইসরায়েল শিগগিরই ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হতে পারে। এক্সিওস-এর এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সূত্রের বরাত দিয়ে সোমবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-এর সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর এবং গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ তুলতে মার্চের শেষ দিকে ইরানকে ১০ দিনের সময়সীমা দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সময়সীমা শেষ হচ্ছে আজ সোমবার।

এদিকে রোববার ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন ট্রাম্প। শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় তিনি বলেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান যদি হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ প্রত্যাহার না করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় না আসে, তাহলে দেশটির সব বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেওয়া হবে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের সূত্রগুলো এক্সিওসকে জানিয়েছে, ট্রাম্পের এসব আল্টিমেটাম ইরান মেনে নেবে— এমন সম্ভাবনা ক্ষীণ। বরং এই সম্ভাব্য ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতিই বর্তমান উত্তেজনা নাটকীয়ভাবে কমাতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, প্রস্তাবিত ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি দুই স্তরের হতে পারে। ইরান ইতিবাচক সাড়া দিলে প্রথম ধাপে ৪৫ দিন পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলা থেকে বিরত থাকবে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

এ সময়ের মধ্যেই স্থায়ী যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে আলোচনা শুরু হবে তিন দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে। আশা করা হচ্ছে, এই আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমঝোতার পথ তৈরি হতে পারে।

মার্কিন, ইসরায়েলি ও মধ্যপ্রাচ্যের সূত্রগুলোর মতে, প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

এদিকে রোববার এক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও স্বীকার করেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের ‘গভীর আলোচনা’ চলছে এবং ঘোষিত সময়সীমার আগেই এর ফল পাওয়া যেতে পারে।

তিনি বলেন, ইরানের সামনে একটি ভালো সুযোগ রয়েছে, তবে সমঝোতায় না পৌঁছালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.