ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানী সংকটের মধ্যে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী ও পেট্রোল পাম্পের মালিকদের লোকচুরি খেলার কারণে সরকার ও বিপিসির তথ্য অনুযায়ী পর্যাপ্ত মজুদ ও সরবরাহ থাকার পরও গ্রাহকরা পেট্রোল পাম্পে গিয়ে “জিডেল-অকটেন নাই” এই ধরনের সাইনবোর্ড দেখতে পাচ্ছেন। যার ফলে গ্রাহকরা তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে গাড়ীর মালিক ও ড্রাইভারদের পুরো দিন সময় দিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় জ্বালানী তেলের সরবরাহ, মজুদ ও বিতরণে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণের তাগিদ দিয়েছে দেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের জাতীয় প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগ ও নগর কমিটির নেতৃবৃন্দ।
০২ এপ্রিল ২০২৬ইং গণমাধ্যমে প্রেরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেছেন ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগরের প্রেসিডেন্ট জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, যুগ্ন সম্পাদক মোঃ সেলিম জাহাঙ্গীর, সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস, ক্যাব যুব গ্রুপ চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আবু হানিফ নোমান প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বিগত আগুন সন্ত্রাসের সময় জ্বালানী তেলের অবৈধ বিপনন ও চুরি রোধে নানা সিদ্ধান্ত তৎকালীন সরকার নেওয়া হলেও কার্যত কিছু করা হয়নি। ইরান যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে কিছু লোক খোলা ড্রামে, গুদামে ও বিভিন্ন স্থানে তেল মজুত করছেন যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অভিযানে ধরা পড়ছে। ভাউচারের মাধ্যমে তেল পরিবহন ও বিভিন্ন পরিবহন থেকে চোরাই পাইপ লাগিয়ে তেল চুরির ঘটনা বেড়েছে। তেলের পর্যাপ্ত মজুদ ও সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি উন্নত হয়নি, যার কারণে জনগণের বিভ্রান্তি ও শংকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেছেন, জ্বালানী মন্ত্রণালয়, বিপিসি ও পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির মাধ্যমে স্পষ্ট ঘোষণা দিলে কোন পাম্পে পর্যাপ্ত তেল রয়েছে, সেই পাম্প থেকে গ্রাহক তেল সংগ্রহ করতে পারবে এবং পাম্প-টু-পাম্প দৌড়াদৌড়ি ও ভোগান্তি কমবে। স্থানীয় পত্র-পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি জনগণকে জানানো যেতে পারে।
অসাধু ব্যবসায়ীদের চুরি, সিন্ডিকেট ও মজুদদারি রোধে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে নজরদারি বাড়ানো, পাম্পগুলোতে তেলের মজুদ ও সরবরাহের সার্বিক তথ্য নজরদারি করা এবং জনগণকে সঠিক তথ্য প্রদান করা হলে সংকট কাটানো সম্ভব হবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি বিবেচনা করে জ্বালানী সাশ্রয়নীতি গ্রহণ, ব্যক্তিগত গাড়ী ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহন ব্যবহার, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সাধারণ জনগণকে জ্বালানি সাশ্রয়ী নীতি অনুসরণে উদ্বুদ্ধ করতে হবে এবং নাগরিক নজরদারি জোরদার করতে গণমাধ্যম, ক্যাব সদস্য ও পেশাজীবীদের সমন্বয় জরুরি।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.