যুক্তরাষ্ট্রের চাপ উপেক্ষা করে কিউবায় তেল পাঠালো রাশিয়া

রাশিয়ার তেলবাহী একটি ট্যাংকার এক লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল নিয়ে কিউবায় পৌঁছেছে। সোমবার রাশিয়া এ তথ্য জানিয়েছে। মস্কো বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ সত্ত্বেও বন্ধুরাষ্ট্র কিউবার পাশে থেকে তারা তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখবে।

গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকে ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবায় তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে জ্বালানিসংকটে পড়ে কিউবা।

এ অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, কোনো দেশ কিউবায় তেল পাঠালে তাদের ওপর শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করা হবে। তবে রোববার তিনি অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন এবং কিউবার জনগণের জ্বালানিসংকটের প্রতি সমবেদনা জানান।

রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘আনাতোলি কোলোদকিন’ নামের ট্যাংকারটি বর্তমানে কিউবার মাতানজাস বন্দরে তেল খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। জাহাজটি ৮ মার্চ রাশিয়ার বাল্টিক সাগরের প্রিমোরস্ক বন্দর ছেড়ে আসে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, কিউবায় তেল সরবরাহের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় তোলা হয়েছিল। তবে কিউবার মতো বন্ধুরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ানোকে তারা নিজেদের দায়িত্ব হিসেবে দেখছে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, কিউবার জনগণের বর্তমান পরিস্থিতিতে রাশিয়া উদাসীন থাকতে পারে না এবং তারা এ বিষয়ে কাজ চালিয়ে যাবে।

কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ ক্যানেল জানান, তিন মাস ধরে দেশে কোনো তেলের ট্যাংক আসেনি। জ্বালানিসংকটের কারণে দেশটিতে ব্যাপক লোডশেডিং চলছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, এই সংকটে ক্যানসার রোগীসহ অনেক মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

১৯৫৯ সালের কমিউনিস্ট বিপ্লবের পর থেকে কিউবা তেলের জন্য সোভিয়েত ইউনিয়নের ওপর নির্ভরশীল ছিল। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য দেশটির আমদানি করা জ্বালানি তেল ও ডিজেলের প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.