যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার দাবি ‘মিথ্যা’, ট্রাম্পকে পাল্টা জবাব ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা ও ঐকমত্যে পৌঁছানোর কথা সরাসরি অস্বীকার করেছে ইরান। এমনকি, তেহরানের দাবি, ‘বাঁচার জন্য’ ঐকমত্যের ‘মিথ্যা’ দাবি করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ ও দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও একই মন্তব্য করেছে।

এর আগে সোমবার (২৩ মার্চ) ট্রাম্প দাবি করেন, রোববার (২২ মার্চ) ইরানের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা হয়েছে। আর এই আলোচনার জন্য ইরানই প্রথমে যোগাযোগ করেছিল। এ বিষয়ে ট্রাম্প নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের কাছেও একই দাবি করেন।

ফ্লোরিডার একটি বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের বেশ জোরালো আলোচনা হয়েছে এবং দুই পক্ষ ‘গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান প্রধান বিষয়ে একমত’ হতে পেরেছে। রোববার হওয়া আলোচনা সোমবারও অব্যাহত থাকবে।

ট্রাম্প বলেন, আমাদের মধ্যে প্রধান প্রধান বিষয়ে ঐকমত্যের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এমনকি, প্রায় সব বিষয়ে আমরা একমত হতে পেরেছি। দেখা যাক, এগুলো কোন দিকে নিয়ে যায়।

তিনি আরও দাবি করেন, ইরান একটি চুক্তি করতে খুব আগ্রহী। যুক্তরাষ্ট্রও একটি চুক্তি করতে চায়। তাঁর মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার এ নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছেন। চুক্তি না হলে ইরানে হামলা চালিয়ে যাওয়া হবে বলেও জানান ট্রাম্প।

এদিকে, ইরানের ঠিক কার সঙ্গে কথা হচ্ছে, সেটি জানাননি ট্রাম্প। তবে তিনি জানান, এই আলোচনায় ইরানের একজন ‘শীর্ষ পর্যায়ের সম্মানিত নেতা’ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

ট্রাম্প আরও বলেন, সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কিছু জানতে পারেনি। তিনি মোজতবা খামেনির মৃত্যু কামনা করেন না বলেও মন্তব্য করেন।

ট্রাম্পের এসব দাবির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে গালিবাফ লেখেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। আর্থিক ও তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যে চোরাবালিতে আটকে গেছে, তা থেকে বাঁচতে মিথ্যা খবর ব্যবহার করা হচ্ছে।

দ্বিতীয় একটি পোস্টে গালিবাফ লেখেন, ইরান ‘আগ্রাসনকারীদের পূর্ণাঙ্গ ও অনুশোচনামূলক শাস্তি’ দাবি করে। এই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের কর্মকর্তারা দৃঢ়ভাবে তাদের সর্বোচ্চ নেতা ও জনগণের পাশে রয়েছেন।

গালিবাফের পোস্টের আগে এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার খবরটি অস্বীকার করেন। তিনি জানান, হরমুজ প্রণালি ও যুদ্ধ বন্ধের শর্ত নিয়ে তেহরানের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.