মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের ভয়াবহ উল্লম্ফন ঘটেছে। আজ সোমবার এশিয়ার বাজার খোলার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। বর্তমানে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতার সংকেত দিচ্ছে।
সোমবার (৯ মার্চ) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও আল জাজিরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
অয়েল প্রাইস ডট কম (oilprice.com)-এর তথ্য অনুসারে, আজ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার এবং ডব্লিউটিআই (WTI) ক্রুডের দাম ১১৩ দশমিক ৪০ ডলারে উঠেছে। এছাড়া মারাবান ক্রুডের দাম ১২০ ডলারে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে মার্চের শেষ নাগাদ তেলের দাম ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। সংঘাতের জেরে ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত তেল উৎপাদন কমিয়ে দেওয়ায় সরবরাহ সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
পুঁজিবাজারে ধস ও সার্কিট ব্রেকার
তেলের দাম বাড়ার সমান্তরালে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পুঁজিবাজারগুলোতে বড় পতন হয়েছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ৭ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি (KOSPI) সূচক ৮ শতাংশের বেশি পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোরিয়ান বাজারে ২০ মিনিটের জন্য লেনদেন স্থগিত বা ‘সার্কিট ব্রেকার’ ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়। এছাড়া হংকংয়ের হ্যাংস্যাং ৩ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ার এএসএক্স ২০০ সূচক ৪ শতাংশ কমেছে।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করেছে যে, তেলের দাম প্রতি ১০ শতাংশ বাড়লে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বাড়বে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ কমে যাবে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেলের দাম বৃদ্ধিকে ইরানের পারমাণবিক হুমকি মুক্তির ‘সামান্য মূল্য’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরা হয়েছে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.